Advertisement
E-Paper

ধানতলা কাণ্ডের আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরেছিলেন বাড়ি, ভাইঝিকে ধর্ষণ মামলায় ফের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আদালত সূত্রে খবর, ১৯ জন সাক্ষীর বয়ান নেওয়ার পরে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:১৮

—প্রতীকী চিত্র।

নদিয়ার রানাঘাটের ধানতলা ধর্ষণকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে ফের নিজের ভাইঝিকে ধর্ষণ করে। দ্বিতীয় ধর্ষণের মামলায় বৃহস্পতিবার অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বনগাঁ আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালে রানাঘাটের ধানতলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। কন্যাযাত্রীর বাস আটকে রেখে সাত জন মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। সেই অপরাধে গোপালনগরের বাসিন্দা কমলেশ বালা (৪০)-কে ১৬ বছর সংশোধনাগারে থাকতে হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পায় কমলেশ। বাড়ি ফেরার এক বছরের মধ্যে নিজের নাবালিকা ভাইঝিকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে কমলেশের বিরুদ্ধে।

এক দিন দুপুরে কমলেশের মা ও কাকিমা বাড়ির কাছে একটি পুকুরে স্নান করতে গিয়েছিলেন। কমলেশের বাড়ির পাশের বাড়িতেই থাকত নাবালিকা ভাইঝি (১৪)। অভিযোগ, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কমলেশ ভাইঝির ঘরে ঢুকে তার গলা, মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এই বিষয়ে কাউকে বললে নাবালিকাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকিও দেয় সে। ভয়ে কাউকে কিছু না বললেও অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। চিকিৎসার জন্য তাকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ ১৬ দিন হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিল নাবালিকা। তত দিনে নির্যাতিতার ঘটনা জানতে পারেন নাবালিকার পরিবারের সদস্যেরা। গোপালনগর থানায় কমলেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় ধর্ষণের অভিযোগ।

অভিযোগের দু’দিন পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়। বনগাঁ আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজের ১ নম্বর কোর্টে বিচারক রাজীব সাহার এজলাসে চলতে থাকে মামলা।

আদালত সূত্রে খবর, ১৯ জন সাক্ষীর বয়ান নেওয়ার পরে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

এই প্রসঙ্গে সরকার পক্ষের আইনজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, ‘‘ধানতলা ধর্ষণকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ১৬ বছর সংশোধনাগারে থাকার পরেও তার কোনও সংশোধন হয়নি। জামিনে মুক্ত হয়ে ফের ধর্ষণ করেছে। দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় শুনিয়েছেন বিচারক। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্যাতিতাকে দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। অপরাধীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্যাতিতাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য।’’


court case dhantala Harrasment Bangaon Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy