E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পর্যটন কেন্দ্র টাকিতেও মিলল খাবারে ভেজাল

রবিবার বাসন্তীর বিডিও সঞ্চিতা ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্যসুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা সকাল ১১টা নাগাদ হানা দেন বাসন্তী বাজারে। সেখানে একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁ, বিরিয়ানির দোকান ঘুরে দেখেন তাঁরা। অস্বাস্থ্যকর সামগ্রী দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, খাবার নষ্ট করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৩
ভাঙড়ের ঘটকপুকুরে বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকানে অভিযান প্রশাসনের। রবিবার।

ভাঙড়ের ঘটকপুকুরে বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকানে অভিযান প্রশাসনের। রবিবার। ছবি: সামসুল হুদা।

খাদ্যসুরক্ষা দফতরের অভিযান অব্যাহত। নানা অনৈতিক বিষয়, খাবারের গুণমান নিয়ে অভিযোগ চোখে পড়ছে আধিকারিকেদর।

রবিবার বাসন্তীর বিডিও সঞ্চিতা ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্যসুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা সকাল ১১টা নাগাদ হানা দেন বাসন্তী বাজারে। সেখানে একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁ, বিরিয়ানির দোকান ঘুরে দেখেন তাঁরা। অস্বাস্থ্যকর সামগ্রী দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, খাবার নষ্ট করা হয়। বেশ কয়েকটি হোটেল ও রেস্তরাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। খাদ্যসুরক্ষা লাইসেন্স কেন নেই হোটেল-রেস্তরাঁগুলিতে—তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। অবিলম্বে লাইসেন্স তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু হোটেলের রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হন আধিকারিকেরা।

পর্যটনকেন্দ্র টাকিতে রবিবার সকালে হানা দিল খাদ্যসুরক্ষা দফতর। সঙ্গে ছিল স্বাস্থ্য দফতর, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং টাকি পুরসভার কর্মীরা। ইছামতী নদী সংলগ্ন নামী রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে একটি নাম করা ফোর স্টার হোটেল এবং পুরসভার সরকারি গেস্ট হাউজ়ে অভিযান চলে। একটি রেস্তরাঁ থেকে কয়েক কিলো পচা মাংস, মেয়াদ-উত্তীর্ণ খাবার, মশলা, বেআইনি রং-সহ নানা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়।

বেনিয়ম দেখে টাকি পুরসভার একটি সরকারি গেস্ট হাউজ়ের রান্নার বিভাগ সাতদিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যসুরক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকি পুরসভার ওই গেস্ট হাউজ়ের রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছিল। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল আবর্জনা। ব্যবহার করা হচ্ছিল মেয়াদ-উত্তীর্ণ মশলা ও অন্যান্য সামগ্রী। বেশ কয়েকটি হোটেল ও রেস্তরাঁকে তিনদিনের নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সন্তোষজনক জবাব না মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দফতর।

ইছামতী সংলগ্ন টাকির একটি নামী ফোর স্টার হোটেলেও অভিযান চলে। সেখানে পর্যটকদের সঙ্গেও কথা বলেন আধিকারিকেরা। পরে সরাসরি রান্নাঘরে ঢুকে বিভিন্ন কন্টেনার ও খাদ্যসামগ্রী পরীক্ষা করেন। হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলা হয়।

খাদ্যসুরক্ষা দফতরের আধিকারিক অপরাজিতা মজুমদার বলেন, ‘‘টাকি পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে বিভিন্ন রেস্তরাঁ গড়ে উঠেছে। উন্নতমানের ফোর স্টার হোটেলও তৈরি হয়েছে। সেই সব জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ, পুরসভার সরকারি গেস্ট হাউজ়ে মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস দিয়ে রান্না এবং রান্নাঘরে নোংরা আবর্জনা রাখার কারণে সাতদিনের জন্য সেটি বন্ধ করা হয়েছে। যাঁরা এ ধরনের কাজ করছেন, তাঁরা অবিলম্বে সতর্ক হন। না হলে আগামী দিনে বড়সড় পদক্ষেপ করা হবে।’’

টাকি পুরসভার এক আধিকারিকের দাবি, সরকারি গেস্ট হাউজ় হলেও সেটি লিজ় নিয়ে চালায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাদের লাইসেন্সপত্রও ঠিকঠাক নেই। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে গেস্ট হাউজ় সিল করে দেওয়া হবে।

টাকির বাসিন্দা অধীর দাস বলেন, “টাকি পর্যটনকেন্দ্রে ভিন্‌ রাজ্য, কলকাতা এবং বাইরের জেলার বহু মানুষ আসেন। নদীর ওপারেই বাংলাদেশ, পরিবেশও মনোরম। এই রকম জায়গায় হোটেল-রেস্তরাঁয় পচা মাংস পাওয়া যাচ্ছে—এটা দুর্ভাগ্যজনক।’’

বিরিয়ানির মাংস ও আলু থেকে শুরু করে মিষ্টি—সবেতেই মেশানো হচ্ছে মানুষের খাবারের অনুপযোগী রং! এমনই অভিযোগ উঠে এল বনগাঁর গাঁড়াপোতা বাজারে। রবিবার দুপুরে খাদ্যসুরক্ষা দফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকান এবং মিষ্টির দোকানে হানা দেওয়া হয়। অভিযানের সময়ে বেশ কয়েকটি দোকানে খাবারে অনুপযোগী রং ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ হন খাদ্যসুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। গামলা ভর্তি রং মাখানো মাংস, আলু এবং মিষ্টি ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করা হয়।

খাদ্যসুরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আমরা গাঁড়াপোতা বাজারের মিষ্টির দোকান, বিরিয়ানির দোকানে অভিযান চালিয়েছি। অনেক জায়গায় খাবারে রং মেশানো হচ্ছে, যা মানুষের খাবারের অনুপযোগী। এই ধরনের রং থেকে কর্কট রোগ পর্যন্ত হতে পারে। আমরা আইন অনুসারে যা করণীয়, সেটা করছি।’’

বনগাঁ শহরের নিউ মার্কেট এলাকাতেও যায় খাদ্যসুরক্ষা দফতরের একটি দল। সেখানে ইলিশ মাছ পরীক্ষা করা হয়। সম্প্রতি বনগাঁর বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের নামে অন্য মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযান চলে কুলপির বেলপুকুর পঞ্চায়েতের নিশ্চিন্তপুর বাজারেও। নেতৃত্বে ছিলেন কুলপির বিডিও পার্থসারথি ঘটক ও ওসি পার্থ সাহা। ছিলেন ডায়মন্ড হারবার মহকুমার খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা।

ভাঙড় ১ ব্লকের ঘটকপুকুর বাজারে বেশ কিছু বিরিয়ানির দোকানে অভিযান চালায় খাদ্যসুরক্ষা দফতর ও জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সঙ্গে ছিল ভাঙড় ১ ব্লক প্রশাসন ও ভাঙড় থানার পুলিশ। ঘটকপুকুরের একটি নামী রেস্তরাঁয় লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে বলে নজরে আসে আধিকারিকদের। ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে তাদের। লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত দোকান চালানো যাবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বেশ কিছু বিরিয়ানির দোকানের বাসি খাবার মজুত ছিল, তা ফেলে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি দোকানে বিরিয়ানিতে যে রং মেশানো হয়, তার গুণমান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আধিকারিকেরা। দু’টি দোকানের রান্নার জায়গার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। খাদ্যসুরক্ষা দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘বেশ কিছু অনিয়ম চোখে পড়েছে। আপাতত তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দু’টি দোকানের লাইসেন্স নেই। আপাতত তাদের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Food Inspection food adulteration taki Food Safety

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy