গায়ের জোরে এক কৃষক পরিবারকে জমি থেকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে। ক্ষমতাবলে পুলিশকে সামনে রেখে ওই কাজ করেছেন তিনি। এমনই অভিযোগ কৃষক পরিবারের। বিধায়কের তর্কাতর্কির একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। বিতর্কে রেখা কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখার বাপের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বউঠাকুরণ এলাকায়। সেখানে ৯ বিঘা সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশী জনৈক সুভাষ নস্করের সঙ্গে তাঁদের গন্ডগোল দীর্ঘ দিনের। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল দুই পক্ষই। সুভাষদের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই চাষবাস করছেন তাঁরা। কাগজ দেখিয়ে তিনি এ-ও জানান, কোনও বাধা এলে পুলিশকে দেখার কথা বলা হয়েছিল। তার পরেও তাঁদের জোর করে চাষের জমি থেকে তুলে দিয়েছেন রেখা। এ ভাবে আদালতের নির্দেশকে তিনি অমান্য করেছেন বলে অভিযোগ প্রতিবেশীর।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সুভাষদের চাষের জমি থেকে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে গিয়েছিলেন বিধায়ক। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা থেকে হাতাহাতি। বিধায়ককে মেজাজ হারাতে দেখে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা সামলাতে যান। খবর পেয়ে সেখানে পরে উপস্থিত হয়েছিল সন্দেশখালি থানার পুলিশ।
সুভাষদের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই জোরজবরদস্তি তাঁদের জমি থেকে বার করে দেন রেখা এবং তাঁর সঙ্গীরা। সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। সুভাষের পরিবারের সদস্য বরুণ নস্কর এবং সঞ্জয় নস্করদের দাবি, এর বিচার হোক। তাঁদের জমি তাঁদের চাষ করতে দেওয়া হোক। আদালতের নির্দেশে মেনেই তাঁরা জমিতে চাষ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবেশী তথা বিধায়কই আদালতের নির্দেশ অমান্য করছেন। পুলিশের কথাও মানতে চাননি তিনি।
বিধায়কের সঙ্গে ঝগড়া প্রতিবেশীর।
রেখা এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। জমি-বিতর্কে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, ‘‘আমি বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হয়ে ওঠেনি। বিষয়টি না জেনে আমি কোনও মন্তব্য করতে পারব না।’’