তোলাবাজি, হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি কর্মী। শুধু তা-ই নয়, ধৃতের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলির হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম সঞ্জয় দায়। তিনি স্বরূপনগরের মালঙ্গপাড়ার দাসপাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে দাবি, ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই এলাকায় ‘দাদাগিরি’ শুরু করেন সঞ্জয়। নিজেকে বিজেপি নেতা বলে পরিচয় দিতেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এলাকায় রীতিমতো ‘ত্রাসের’ সৃষ্টি করেছিলেন সঞ্জয়। তাঁর বিরুদ্ধে স্বরূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে।
রবিবার সঞ্জয়কে বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সঞ্জয় কখনওই বিজেপি নেতা নন। তবে তিনি যে বিজেপি কর্মী, তা স্বীকার করছেন নেতৃত্ব। স্বরূপনগরের বিজেপি নেতা বৃন্দাবন দাস জানান, সঞ্জয় তাঁদের দলের কর্মী। তবে পুলিশ তদন্তের প্রয়োজনে যা করার করবে। এতে বিজেপি কোনও ভাবে হস্তক্ষেপ করবে না।
আরও পড়ুন:
তোলাবাজি, কাটমানির মতো বিষয়ে রাজ্য সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে, তা বার বার স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের তরফেও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা প্রচার করা হয়। তবে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তোলাবাজি বন্ধ হয়নি। বিজেপির নেতাকর্মীরাই এই তোলাবাজির ঘটনায় যুক্ত, সেই অভিযোগও মেনে নিয়ে ‘শুধরে’ যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। একই সঙ্গে তাঁদের এ-ও দাবি, যাঁরা বিজেপির নামে তোলাবাজি করছেন, তাঁরা আগে তৃণমূলে ছিলেন। ক্ষমতা বদলের পর তাঁরাই রাতারাতি বিজেপি হয়ে গিয়েছেন।