E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শান্তনুর জেলায় বড় ঘোষণা নেই, হতাশা নানা মহলে

নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁদের বার বার আশ্বস্ত করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এমনকি রাজ্য বিজেপি নেতারা।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৩
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। ফাইল চিত্র।

হুগলির ডানকুনি পেয়েছে নতুন ফ্রেট করিডর। দুর্গাপুর পেয়েছে শিল্প করিডর। শিলিগুড়ি পেয়েছে দিল্লি যাওয়ার উচ্চ গতিসম্পন্ন ট্রেন।কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের জেলা উত্তর ২৪ পরগনার জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে বিশেষ কোনও বড় প্রকল্পের ঘোষণা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বহু সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।

এই জেলায় বহু মতুয়া উদ্বাস্তুর বাস। নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁদের বার বার আশ্বস্ত করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এমনকি রাজ্য বিজেপি নেতারা। সামনে বিধানসভা নিরর্বাচন হওয়ায় সেই মতুয়ারাও এ দিন বড় কোনও ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মিলল কই?

গোপাল দাস নামে গাইঘাটার এক মতুয়া ভক্তের খেদ, ‘‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে শংসাপত্র কবে পাব জানি না। ভেবেছিলাম, জেলার জন্য বড় কোনও ঘোষণা থাকবে। এখানকার মানুষের সমস্যা তো কম নয়! কিন্তু কেন্দ্রীয় বাজেট দেখে আমি হতাশ।’’

সুবর্ণ দাস নামে বনগাঁর এক যুবক বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম, বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে যেমন ভাবে একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা করেছে কেন্দ্র, তেমনই এ রাজ্যের জন্য, বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু হল না।’’ একই রকম হতাশার সুর শোনা গিয়েছে আরও অনেকের কণ্ঠে।

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের দাবি, জেলায় মহিলা হস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল তৈরির জন্য কেন্দ্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রাজ্য সরকারের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বনগাঁ–চাঁদাবাজার এবং চাঁদাবাজার-বাগদা রেলপথ নির্মাণের অনুমোদন কয়েক দিন আগেই রেল মন্ত্রক দিয়েছে। রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।”

শান্তনু এমন দাবি করলেও সাধারণ বিজেপি কর্মীদের একাংশ মানছেন, বাজেটে এই জেলার জন্য বড় কোনও ঘোষণা থাকলে বিধানসভা নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেত। কারণ, এই জেলার তিনটি আসন (গাইঘাটা, বনগাঁ উত্তর ও বনগাঁ দক্ষিণ) রয়েছে বিজেপির দখলে। প্রচারে সেই প্রকল্পের কথা তুলে ধরা যেত।

তৃণমূল শান্তনুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত উন্নয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূল কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাদের প্রশ্ন এ রাজ্যে বন্দে ভারত চলছে না? কল্যাণীতে এমস হয়নি? পেট্রাপোল বন্দরের আধুনিকীকরণ কি অন্য কোথাও হয়েছে? দলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের কটাক্ষ, ‘‘কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিজে কোনও উন্নয়ন করেন না। আবার কেন্দ্রের কাছ থেকেও কোনও বড় প্রকল্প নিয়ে আসতে ব্যর্থ হন। বিজেপি যে বাংলা-বিরোধী, তা ফের প্রমাণিত হল।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Shantanu Thakur North 24 Parganas

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy