ইছামতী নদীতে এমনিতেই নাব্যতা কমেছে। তার মধ্যেই বসিরহাটে রাতের অন্ধকারে নদীর চর থেকে বেআইনি ভাবে বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, অন্ধকার নামলেই বসিরহাট মহকুমার ইটিন্ডা শ্মশানঘাট এলাকায় নৌকো নিয়ে নদীতে নামছে কিছু লোক। চর থেকে বালি তুলে নৌকো বোঝাই করে তা বিভিন্ন ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদীর ধারেই সেই বালি স্তূপ করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে চড়া দামে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হচ্ছে। রোজ নিয়ম করে ওই এলাকায় বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, কাটাখালিতেও দীর্ঘ দিন ধরে রাতের অন্ধকারে ইছামতী থেকে বেআইনি ভাবে বালি তোলা চলছে। এবার একই কাজ শুরু হয়েছে ইটিন্ডায়। স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার গাজি বলেন, ‘‘অন্ধকার নামলেই বালি তোলা শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকার লোক জড়ো হয়। নৌকো করে বালি বোঝাই করে এনে ভাটার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। সেখান থেকেই চড়া দামে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়।’’ বাসিন্দার অভিযোগ, অতিরিক্ত বালি তোলায় নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করেছে। এর ফলে নদীর গতিপথ বদলে যেতে পারে মনে করছেন অনেকে।
বালি পাচারের অভিযোগে গত শনিবার হাসনাবাদের কাটাখালি থেকে একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শরিফ গাজি ও বাহারুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই বেআইনি ভাবে বালি উত্তোলনের ঘটনায় হাসনাবাদের কাটাখালি থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি গাড়িও আটক করা হয়েছে। ইটিন্ডা শ্মশানঘাট এলাকায় বালি উত্তোলনের বিষয়টি নিয়েও খুব তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ করা হবে।’’
সেচ দফতরের আধিকারিক দীপন মজুমদার বলেন, ‘‘বেআইনি ভাবে বালি উত্তোলনের খবর বিভিন্ন সময়ে আমাদের কানে এলে আমরা পুলিশ-প্রশাসনকে জানিয়েছি। পুলিশ-প্রশাসন পদক্ষেপও করেছে। ইটিন্ডা এলাকায় ইছামতী থেকে বালি উত্তোলনের খবর আমাদের কানে এসেছে। পুলিশ-প্রশাসনকে নিয়েই পদক্ষেপ করা হবে।’’