টানা দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন বসিরহাট মহকুমার কৃষকেরা। হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, মিনাখাঁ, বাদুড়িয়া, সন্দেশখালি ১ ও ২ ব্লক-সহ একাধিক এলাকায় বিঘের পর বিঘে ধান, পাট, উচ্ছে, ঝিঙে, কাঁকরোল, সিম, ঢেঁড়স, লাউ, শসা, বেগুনের খেত কার্যত জলের তলায়। নদীমাতৃক ও দোঁয়াশ মাটির এই কৃষিপ্রধান এলাকায় পাটচাষ বেশি হওয়ায় সেখানে ক্ষতির আশঙ্কাও তুলনামূলক বেশি।
কৃষকদের দাবি, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন লাভের আশায়। কিন্তু টানা বর্ষণে সেই আশা ভেস্তে গিয়েছে। এখন কী ভাবে ঋণ শোধ করবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তাঁরা। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাটচাষে। দীর্ঘ সময় জল দাঁড়িয়ে থাকলে শিকড়ে অক্সিজেনের অভাব হয়, ফলে পাটের আঁশের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে, উচ্ছে, ঝিঙে, কাঁকরোল, সিম-সহ বিভিন্ন আনাজের খেতও জলের নীচে চলে যাওয়ায় সেগুলি আর বাঁচানো সম্ভব নয় বলেই দাবি কৃষকদের। আমন ধানের চারাও বহু জায়গায় জলের তলায় ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এতে ফলন কমবে। কোথাও পাকা ধান জলে পড়ে অঙ্কুরিত হলে তার মান নষ্ট হয়ে ফলনও উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যেতে পারে। বাজারে বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির মধ্যেই এই বিপর্যয় তাঁদের আর্থিক সঙ্কট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষক জহুরুল আলম সাহাজি বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টিতে পটল, ঝিঙে, বেগুন কার্যত জলের তলায়। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করি। এত ক্ষতি হবে ভাবিনি। ফলন কমবে। পাট দীর্ঘ দিন জলে থাকলে আঁশের গুণগত মান নষ্ট হবে, বাজারেও দাম মিলবে না।’’ আর এক কৃষক আজিজুল রহমানের কথায়, ‘‘ধান ও সিমচাষেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সিমের মাচা জলের তলায়। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, এখন কী ভাবে সেই টাকা শোধ করব জানি না। সরকারের কাছে আবেদন, পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য করা হোক।’’