বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকায় যশোর রোডের ধারে গাড়ির সার্ভিস সেন্টারে অগ্নিকাণ্ড। সোমবার ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের কাছে বাঁকড়া এলাকায় ওই সার্ভিস সেন্টারে আগুন লাগে। দুর্ঘটনার সময়ে সেখানে ২৩টি গাড়ি রাখা ছিল। সবগুলিই পুড়ে গিয়েছে। দমকলের আটটি ইঞ্জিন প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সার্ভিস সেন্টারে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে দমকল।
বাঁকড়ায় যশোর রোডের ধারে একটি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার শোরুম রয়েছে। ওই শোরুম সংলগ্ন সার্ভিস সেন্টারও রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, ওই সার্ভিস সেন্টারেই কোনও কারণে আগুন ধরে যায় সোমবার ভোরে। নিমেষে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে সার্ভিস সেন্টার। আগুনের গ্রাসে চলে যায় একের পর এক গাড়ি। কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উঠতে থাকে আকাশে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মধ্যমগ্রাম এবং বিরাটির দমকলকেন্দ্র থেকে ইঞ্জিন পৌঁছোয় দুর্ঘটনাস্থলে। পরে আরও ইঞ্জিন ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত মোট আটটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নেবানো সম্ভব হয়। আগুনের তালে আশপাশের এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির কোনও খবর মেলেনি। গাড়ির সার্ভিস সেন্টারে আগুন লাগার জেরে সাময়িক ভাবে যানজট তৈরি হয় যশোর রোডে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দমকল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছোতে দেরি করেছে। যদিও দমকলের দাবি, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ইঞ্জিন।
মধ্যমগ্রামের দমকল আধিকারিক শুভাশিস নাথ জানান, ভোর ৪ টে ৪৫ নাগাদ দমকলের কাছে অগ্নিকাণ্ডের খবর যায়। তার পরেই দমকলকর্মীরা ছুটে যান সেখানে। তিনি আরও জানান, সে সময়ে সার্ভিস সেন্টারের ভিতরে ২১ টি এবং বাইরে দু’টি গাড়ি ছিল। মোট ২৩টি গাড়িই পুড়ে যায়। তবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয় বলেই জানান তিনি। ওই সার্ভিস সেন্টারের ভিতরে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বলেও জানান তিনি।
সার্ভিস সেন্টারে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই দমকল আধিকারিক বলেন, “না না, কিচ্ছু ছিল না। এখানে কিছু ছিল না। শুধু কয়েকটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল। আর কিছু ছিল না।”