বুধবার সকালে বাসন্তী হাইওয়েতে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক গৃহবধুর। উত্তর ২৪ পরগনার ভাঙড় থানার অন্তর্গত নলমুড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গৃহবধুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকা জুড়ে। বিক্ষোভের কারণে বাসন্তী হাইওয়ে বেশ কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। উত্তেজিত জনতা একটি বাস ও মালবাহী বোলেরো গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই গৃহবধু বাসন্তী হাইওয়ে পার হচ্ছিলেন। সেই সময়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও ওই বোলেরো গাড়ি এবং ধামাখালি থেকে কলকাতাগামী একটি বাস সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, প্রথমে বোলেরো গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে ওই গৃহবধুকে। সেই ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়লে তাঁর মাথা বাসের চাকার তলায় চলে যায়। ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঘটনার পরে ওই এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা বাস ও বোলেরো গাড়িটি থামিয়ে তাতে ভাঙচুর চালায় এবং বাসন্তী হাইওয়ে অবরোধ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ভাঙড় থানার পুলিশ। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে নলমুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
স্থানীয় এক ব্যাক্তি বলেন, ‘‘বার বার দেখে আসছি, ঠিক এই সিগন্যালটাতেই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের কাছে আমাদের মূলত দু’টি দাবি। এই সিগন্যালের দু’পাশে দু’টো বাম্পার বসানো হোক এবং এই রাস্তায় যাঁরা সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি চালাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’’
পুলিশ সূত্রের খবর, স্থানীয়দের দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসন্তী হাইওয়ে এমনিতেই দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তা বলে পরিচিত। সায়েন্স সিটি থেকে বাসন্তী হয়ে গদখালি পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার রাস্তা। ২০২২ সালে এই রাস্তায় মৃত্যু হয়েছিল আট জনের। জখমের সংখ্যাও বহু। তাই ২০২৩ সালে ওই রাস্তার একাংশে ১১টি সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার পরেও এই সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি।