দুর্গাপুজোয় জোরে মাইক চালানো নিয়ে বিতর্ক বরাহনগরের নেতাজি কলোনি লোল্যান্ড এলাকায়। অভিযোগ, নিয়ম না-মেনেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুজো কমিটি ও বরাহনগর পুরসভার আধিকারিকদের নোটিস পাঠিয়েছে বরাহনগর থানা। পুলিশের নির্দেশ, মাইকের শব্দ যাতে নির্দিষ্ট মাত্রা না-ছাড়ায় তা খেয়াল রাখতে হবে। রাত ১০টার পর জরুরি ঘোষণা ছাড়া মাইক ব্যবহার করা যাবে না। যদিও পুলিশের নোটিস পাওয়ার পর পুজো কমিটিগুলির দাবি, নির্ধারিত সময় মেনেই মাইক বন্ধ করা হচ্ছে।
ওই এলাকায় একাধিক পুজো অনুষ্ঠিত হওয়ায় কোন মণ্ডপের মাইকের শব্দ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তা স্পষ্ট নয়। বরাহনগর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক ১৭ অক্টোবর (শনিবার) নোটিস জারি করেন। তা অনুযায়ী বরানগর পুরসভার উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা দিলীপনারায়ণ বসুকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি নেতাজি কলোনি লোল্যান্ড সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সঙ্গেও যুক্ত। অভিযোগ, ওই এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারস্বরে লাউডস্পিকার বাজানো হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে শব্দের মাত্রা সীমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
এই প্রসঙ্গে লোল্যান্ড সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির কার্যকরী সভাপতি তৃপ্তি রায়চৌধুরী জানান, তাঁদের পুজোয় রাত ১০টার পর মাইকের শব্দ কমিয়ে দেওয়া হয়। সাড়ে ১০টার মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পঞ্চমী পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও সেগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হয় বলে দাবি তাঁর। তৃপ্তির বক্তব্য, একই এলাকায় পরপর তিনটি পুজো রয়েছে। একটি নেতাজি কলোনি সর্বজনীন দুর্গোৎসব। অপর দু’টির মধ্যে একটি মহিলা পরিচালিত পুজো। তাঁর দাবি, সংলগ্ন অন্য পুজোয় সকাল থেকেই মাইক বাজতে শোনা যায়। ফলে ঠিক কোন পুজোর মাইকের শব্দ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তাঁদের সংশয় রয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের নোটিস পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটির তরফে বৈঠক ডাকা হয়েছে।
দিলীপ বলেন, ‘‘পুলিশের নির্দেশ মেনে মাইক বন্ধ করা বা মাত্রা কমানোর বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ করব। লোল্যান্ড এলাকায় পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের পথ চিনতে যাতে সমস্যা না হয়, সেই কারণেই মাইকে ঘোষণা করা হয়। দূরদুরান্ত থেকে আসা বহু মানুষ এলাকার অলিগলি চেনেন না। তাঁদের সুবিধার কথা ভেবেই মাইকের ব্যবস্থা করা হয়।’’