E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

খানা তল্লাশিতে রোজই মিলছে পচা-নষ্ট মাংস

হাড়োয়া থানার গোপালপুর বাজার, হাটখোলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিরিয়ানি, মিষ্টি, হোটেল, রেস্তরাঁ ও বেকারিতে তল্লাশি চালানো হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৩
মুরগির খামারে অভিযান আধিকারিকদের। শনিবার বসিরহাটে।

মুরগির খামারে অভিযান আধিকারিকদের। শনিবার বসিরহাটে। নিজস্ব চিত্র ।

পচা মাংস তো মিলছেই, এ বার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চানাচুর তৈরি, বৈধ নথি ছাড়াই জল ও পোলট্রি ব্যবসা চালানো—খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে শনিবার বসিরহাট মহকুমায় একাধিক অভিযানে সামনে এল এমনই ছবি।

হাড়োয়া ও স্বরূপনগরের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসুরক্ষা দফতর, ব্লক প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতর এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে বাজেয়াপ্ত ও নষ্ট করা হয়েছে বেশ কিছু খাদ্যসামগ্রী। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দু’টি জলের প্লান্ট। একটি পোলট্রি ফার্মকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে।

হাড়োয়া থানার গোপালপুর বাজার, হাটখোলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিরিয়ানি, মিষ্টি, হোটেল, রেস্তরাঁ ও বেকারিতে তল্লাশি চালানো হয়। একটি বিরিয়ানির দোকানে ম্যারিনেট করে এবং ফ্রিজ়ে রাখা ৫-৬ কেজি পচা মাংসের সন্ধান পান আধিকারিকেরা। তা ঘটনাস্থলেই নষ্ট করা হয়েছে। কয়েকটি মিষ্টির দোকানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা খাবার, পচা বা ভেজাল খাদ্যসামগ্রী এবং কোথাও অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

একই দিনে কাঁকুড়িয়া এলাকায় একটি চানাচুর কারখানায় গিয়ে বেহাল ছবি দেখেন খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকেরা। যত্রতত্র আবর্জনা, বাসি ময়দা-বেসন এবং অপরিষ্কার পাত্রে তৈরি হচ্ছিল চানাচুর। ভাজার তেল ছিল কুচকুচে কালো, তা থেকে বেরোচ্ছিল ধোঁয়া। পুরনো তেল ব্যবহারের বিষয়ে কারখানার মালিক সাফাই দিতে থাকলে খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিক মিনু কুন্ডু তাঁকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা কি রান্না করতে জানি না, কিছু বুঝি না?’’ সতর্ক করার পাশাপাশি কিছু চানাচুর বাজেয়াপ্ত করা হয়।

স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তের বিথারি, ডাকবাংলা-সহ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় দু’টি জলের প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভূগর্ভস্থ জল তুলে বোতলজাত করার পাশাপাশি জল পরিশোধনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। একটি পোলট্রি ফার্মে মুরগি দ্রুত বড় করতে ব্যবহৃত ওষুধ, হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ নথি না মেলায় শো-কজ় করা হয়েছে।

খাদ্যসুরক্ষা দফতরের চিকিৎসক অপরাজিতা মজুমদার বলেন, ‘‘অনেক জায়গায় দেখা গেল, মুরগি পালনের সাধারণ নিয়ম মানা হচ্ছে না। অল্প সময়ে মুরগি বড় করতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।’’ তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে, বাকি বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ করবে।

বসিরহাট পুলিশ জেলার এক উচ্চপদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘রাজ্য সরকারের নির্দেশ পাওয়ার পরে সীমান্ত-সহ বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যসুরক্ষা দফতরের সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অনৈতিক ও অবৈধ কাজকর্মের হদিস মিলেছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।’’

জীবনতলা বাজারেও তল্লাশি চলেছে এদিন। একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁ এবং মিষ্টির দোকানে হাজির হন আধিকারিকেরা। একাধিক অনিয়ম সামনে আসে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। অভিযোগ, বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তরাঁয় খাবারে নিষিদ্ধ রাসায়নিক এবং কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হচ্ছিল। কয়েকটি খাবারের দোকান লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল। কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নাবান্না হচ্ছিল, কোথাও আবার খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না বলে জানতে পারেন সরকারি আধিকারিকেরা।

একটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মিষ্টির দোকান-সহ একাধিক বিরিয়ানির দোকান ও হোটেলকে শো-কজ় করা হয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-২ আত্রেয়ী চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে লাগাতার অভিযান চলছে খাদ্যসুরক্ষা দফতরের। বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। সরকারি নির্দেশ মেনে কয়েকজনকে শো-কজ় করা হয়েছে। একটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Basirhat

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy