এক যুগলের জোরপূর্বক ভিডিয়ো করে সমাজমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই অপমানে আত্মহত্যা করেছেন ২২ বছরের যুবতী। রবিবার এমনই অভিযোগ ঘিরে শোরগোল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে মৃতার পরিবার। আঙুল পুলিশকর্মী-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাটখোলার বাসিন্দা তরুণীর সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই পরিবারই তাঁদের সম্পর্কের কথা জানেন। তাঁদের বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। ছেলেটি বারাসতে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকেন। শনিবার দুপুরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রেমিকা। ওই সময় সেই এলাকার কয়েক জন মাতব্বর তাঁদের ভিডিয়ো করেন এবং বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে দেন।
শুধু তা-ই নয়, যুবক-যুবতীর একান্ত মুহূর্তের ভিডিয়ো তাঁদের কাছে আছে এবং সেগুলো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখান বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
যুবতী বিধ্বস্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, ‘‘ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং পরিবারের সম্মানহানির ভয়ে আজ (রবিবার) দুপুরে নিজের ঘরে আত্মঘাতী হয় ও।’’ ইতিমধ্যে বারাসাত থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতার পরিবার। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ জানাতে গেলে বারাসাত থানার সামনেও গন্ডগোল হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন মৃতার পরিবারের সদস্যেরা। তাঁদের দাবি, ওই মাতব্বরদের মধ্যে পুলিশে চাকরি করা একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন। সেই কারণে পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করছিল। তবে বারাসাত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বারাসাতের এক মহিলা পুলিশকর্মী এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কী কারনে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।