১৩ বছরের এক নাবালিকাকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের পর সেই ভিডিয়ো পাঠিয়ে পরিবারকে হুমকি দেওয়া এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ বাগুইআটিতে। মঙ্গলবার এ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে মেয়েটির পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর, শনিবার ‘নির্যাতিতা’ তাদের বাগুইআটির বাড়ি থেকে এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে বিরাটি গিয়েছিল। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তার পর বিরাটি থেকে ব্যান্ডেলের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় স্কুলছাত্রীটিকে। ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে মাদকজাতীয় কোনও ওষুধ মিশিয়ে তাকে খেতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার পর একাধিক ব্যক্তি তাকে যৌন নির্যাতন করেছে। ওই হেনস্থা, নিগ্রহের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন অভিযুক্তেরা। পরে নাবালিকার মাকে ফোনে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করতে থাকেন তাঁরা।
নাবালিকার পরিবারের দাবি, শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টা নাগাদ বাড়ি থেকে বার হয়েছিল মেয়েটি। সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু রাত সাড়ে ৮টার পরেও মেয়ে ফেরেনি দেখে ফোন করেন মা। তখনও মেয়ে জানায় যে, বন্ধুর সঙ্গে ব্যারাকপুরে গিয়েছে সে। বাড়ি ফিরতে রাত ১০টা-১১টা বাজবে। কিন্তু রাত ১১টা বেজে যাওয়ার পরেও মেয়ে বাড়ি ফিরছে না দেখে আবার ফোন করেন মা। ফোন বেজে যায়। পরে একটি অচেনা নম্বর থেকে মায়ের কাছে ফোন যায়। ফোনের ও পারে পুরুষকণ্ঠে জানানো হয়, রাস্তায় নাবালিকাকে কাঁদতে দেখে তিনি তাঁকে নিয়ে গিয়েছেন নিজের কাছে। নিজের মোবাইলটি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন। স্বল্প কথার পর ফোন কেটে যায়।
ছাত্রীর মায়ের দাবি, তার পর রাত ১২টা ৬ মিনিটে মেয়ে তাঁকে মেসেজ করে বলে যে সে বিপদের মধ্যে রয়েছে। বান্ধবী তাকে নিয়ে ‘ঋক’ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়েছে। তার কিছুক্ষণ পরে দেবজিৎ সরকার নাম বলে এক জন তাঁদের ফোন করে আশ্বস্ত করেন। বলা হয়, মেয়ে নিরাপদে আছে। কিছুক্ষণ পর গাড়ি করে বাড়ি ফিরছে সে।
কিন্তু রাতে বাড়ি ফেরেনি মেয়েটি। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সে বাড়ি ফেরে। ঘরে ঢুকেই কাঁদতে থাকে। মেয়েকে ‘চরম মানসিক বিপর্যস্ত’ অবস্থায় দেখে মা তার কাছে খুঁটিয়ে সব জানতে চায়। তখন সে বলে বান্ধবীর এক পরিচিতের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। সেখানে পানীয় দেওয়া হয়। সেটা খাওয়ার পর ঝিমিয়ে পড়েছিল সে। সেই সময় একাধিক ব্যক্তি তাকে শারীরিক অত্যাচার করে। পরে জোর করে গর্ভনিরোধক বড়িও খাওয়ানো হয়।
পুলিশের কাছে মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন মা। অভিযুক্ত হিসেবে মেয়ের বান্ধবী-সহ বেশ কয়েক জনের নাম বলেছেন তিনি। মহিলার দাবি, তাঁর মেয়েকে যৌন হেনস্থার সময় ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছে। সেই ভিডিয়ো তাঁকে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। টাকা চাইছেন অভিযুক্তেরা। প্রথমে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন পুলিশের কাছে যেতে। শেষমেশ পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কারও আটক বা গ্রেফতারির খবর মেলেনি।