E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দুর্বল নদীবাঁধ ভাঙছে, জলমগ্ন একাধিক গ্রাম

নিম্নচাপের জেরে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে নদীবাঁধে। বহু জায়গায় বাঁধ টপকে নোনা জল ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ০২:৩২
জলমগ্ন পথঘাট, এ ভাবেই যাতায়াত চলছে ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রামে।

জলমগ্ন পথঘাট, এ ভাবেই যাতায়াত চলছে ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রামে। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।

টানা বৃষ্টি, তার সঙ্গে উত্তাল সমুদ্রের জোয়ার। জোড়া ধাক্কায় কার্যত বিপর্যস্ত সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূল। কোথাও নদী বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকছে গ্রামে, কোথাও আবার নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জলমগ্ন জনপদ। পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর থেকে নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ—একাধিক এলাকায় ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ। ডুবেছে কৃষিজমি, মাছের ভেড়ি। দুর্বল নদীবাঁধ ঘিরে নতুন করে বাড়ছে আশঙ্কা।

নিম্নচাপের জেরে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে নদীবাঁধে। বহু জায়গায় বাঁধ টপকে নোনা জল ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল হয়ে থাকা বাঁধগুলির উপরs বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় ভাঙনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাসিন্দারা। সব থেকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পাথরপ্রতিমা ব্লকের জি-প্লট পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুরে। একাধিক জায়গায় বাঁধের গায়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। জোয়ার এলেই ঢেউ উপচে নোনা জল ঢুকে পড়ছে গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দাস বলেন, ‘‘জোয়ার মানেই আতঙ্ক। নোনা জলে চাষের জমি নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বছর একই সমস্যা, কিন্তু স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি।’’

উদ্বেগ বাড়িয়েছে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন উপকূলও। সেখানে নতুন করে ভাঙনের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। নামখানার নারায়ণপুর, মৌসুনি দ্বীপ, সাগরের মহিষামারি, ধবলাট, মুড়িগঙ্গা-সহ সুন্দরবনের একাধিক নদীবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও ফাটল, কোথাও আবার জোয়ারের জল উপচে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে।

টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে নামখানা ব্লকের ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রাম কার্যত জলমগ্ন। দীর্ঘদিনের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে অন্তত ৫০টি বাড়িতে হাঁটুসমান জল। বহু পরিবার স্থানীয় স্কুল ও হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। অমরাবতীর বাসিন্দা সাবিত্রী মাইতি বলেন, ‘‘ঘরে জল ঢুকে সব কিছু ভেসে যাচ্ছে। ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’’

লক্ষ্মীপুর ও বিজয়পাটি গ্রামেরও একাধিক বাড়িতে জল ঢুকেছে। কয়েকশো বিঘা কৃষিজমি ডুবে গিয়েছে। নষ্ট হয়েছে ধানের বীজতলা। মাছের ভেড়ি ভেসেছে, জলমগ্ন বাড়িগুলিতে সাপের উপদ্রবও বেড়েছে।বৃষ্টির জেরে নদীবাঁধ মেরামতির কাজও থমকে। কাদা ও জল জমে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ করা যাচ্ছে না। সোমবার দুপুরে ফ্রেজারগঞ্জের জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘দুর্যোগ কমলেই দ্রুত নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের জলমগ্ন গ্রাম না দেখতে হয়, সে দিকেও নজর দেওয়া হবে।’’ সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘‘সেচ দফতরকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। দুর্যোগ কমলেই দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু হবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
River kakdwip

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy