Advertisement
E-Paper

সমবায় দুর্নীতিকাণ্ডে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, জলপাইগুড়িতে ২ কোটি টাকার বেশি অনিয়মের অভিযোগে শোরগোল

সরকার বদলের পর পুরনো মামলার তদন্তে গতি আসে। তদন্তে উঠে আসে, কমল রায়-সহ আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে সমবায়ের প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের কথা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সমবায় দুর্নীতিকাণ্ডে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা তথা জলপাইগুড়ি সমবায় ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান কমল রায়-সহ দুই। শনিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪০৯ (সরকারি কর্মচারী বা ব্যাঙ্কারের দ্বারা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ), ৪১৭ (প্রতারণা), ৪২০ (প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ) এবং ৩৪ (সম্মিলিত অপরাধমূলক অভিপ্রায়) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। ধূপগুড়ি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রশান্ত বিশ্বাস সেই বছরের ২৭ জুন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে গোসাইহাট এসকেইউএসএস সমবায় সমিতির আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গোসাইহাট এসকেইউএসএস জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের অধীনস্থ একটি সমবায় সংস্থা। অভিযোগ অনুযায়ী, দেবব্রত বিশ্বাস ওই সমবায়ের হয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আমানতের টাকা সংগ্রহ করে জমা দিতেন। কিন্তু আমানতের মেয়াদ পূর্ণ হলেও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। এমনকি, করোনার সময় আমানতকারীরা তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত চেয়ে পাননি।

ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা দেবব্রত বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করেন বলে খবর। তবে অভিযোগকারী প্রশান্তের দাবি, ওই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান তথা গোসাইহাট এসকেইউএসএসের সম্পাদক কমল রায়ের বাড়িতে একাধিক বার তিনি গিয়েছেন। কিন্তু তিনিও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন।

অভিযোগ, অভিযুক্তেরা তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি হয়নি। সরকার বদলের পর পুরনো মামলার তদন্তে গতি আসে। তদন্তে উঠে আসে, কমল রায়-সহ আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে সমবায়ের প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের কথা। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই কমল-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্য দিকে, জেলার আরও একাধিক সমবায় সমিতিতে একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত এগোলে আরও প্রভাবশালীদের নাম সামনে আসতে পারে। বিজেপির দাবি, ওই সময় জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছিলেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। তাঁর আমলেই সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তবে এ নিয়ে সৌরভের কোনও প্রতি‌ক্রিয়া মেলেনি।

tmc leader arrested Jalpaiguri financial corruption

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy