কয়েক বছর আগের এক খুনের ঘটনার বদলা নিতে আসা এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারপুরের কামরাবাদ এলাকার ঘটনা। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অন্যের বাড়িতে হামলা চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে যান এক যুবক। অভিযোগ, এর পরেই তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় গোপাল হালদার নামে ওই যুবকের। উল্লেখ্য, নিহত গোপাল নিজেই এলাকার একটি পুরনো খুনের মামলার অভিযুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানা এলাকার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাবাদ ফুলের হাট সংলগ্ন অম্বেডকর নগরে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপাল হালদার তাঁর আরও দুই সঙ্গীকে নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এলাকারই বাসিন্দা কেবো হাজরার বাড়িতে চড়াও হন। বাড়ির ভিতর থেকে হঠাৎ চেঁচামেচির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বেগতিক বুঝে গোপালের দুই সঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে যান গোপাল।
এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, স্থানীয়দের একাংশ প্রকাশ্য রাস্তায় গোপালকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। মারধরের জেরে গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের সামনে এসেছে কয়েক বছর আগের এক খুনের মামলা। যে বাড়িতে বৃহস্পতিবার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে, সেই বাড়ির মালিক কেবো হাজরার দাবি, কয়েক বছর আগে তাঁর ছেলে লাল্টু হাজরাকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। কেবোর দাবি, সেই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন এই গোপাল হালদার এবং সোনারপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল। পুলিশের তরফেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, লাল্টু হাজরা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন নিহত গোপাল।
ফলে বৃহস্পতিবারের এই প্রাণঘাতী হামলার নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা এবং বদলার তত্ত্বই জোরাল হচ্ছে। কেন গোপাল আচমকা ওই বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পুলিশ আধিকারিকেরা গোটা এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। ঠিক কী কারণে গোপালের উপর হামলা হল এবং গণপিটুনির ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা বিস্তারিত ভাবে তদন্ত করে দেখছে সোনারপুর থানার পুলিশ।