বড়দিনের মরসুম শুরু হতে অল্পই দেরি। ঠিক এখনই রাজ্যের নানা প্রান্তের ভুক্তভোগীদের নিয়ে দু’দিনের জন শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান সমাজের উপরে হামলার নানা নমুনা উঠে এল। দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে গত ছ’মাসে বিদ্বেষমূলক নানা অপরাধ যেমন, যৌন হেনস্থা, লুঠপাট, জনরোষের অন্তত ৬০টি অভিযোগ উঠে এসেছে। কলকাতায় ওই জন শুনানির সংগঠক ছিলেন কারওয়ান-ই-মহব্বত, সবর ইনস্টিটিউট, আমরা এক সচেতন প্রয়াসের মতো মঞ্চের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলছেন, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ থেকেও খ্রিস্টান সমাজের তরফে অভিযোগ উঠে এসেছে। ক্রমশ আরও অনেক অপকীর্তিসামনে আসছে।
সোমবারই বর্ধমানের রায়ান গ্রামে একটি খ্রিস্টান বাড়ির প্রার্থনাসভায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। কারওয়াঁ-এ-মহব্বতের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন আইএএস-কর্তা হর্ষ মান্দার মঙ্গলবার বলেন, ‘‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দুর্গ পশ্চিমবঙ্গে গত ছ’মাসে অভাবনীয় কিছু ঘটনা ঘটেছে। এই সব কুকাজ বহুত্ববাদী ভারতকে সংখ্যালগুরুবাদে ভরপুর একনায়কতন্ত্রে রূপান্তরের চেষ্টা করছে।’’ একই সঙ্গে প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকারও বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মহলে হইচই এড়াতে বড় গির্জায় নয়, প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট গির্জা বা প্রার্থনাসভায় নানা হিন্দুত্ববাদী শাখা সংগঠন বা মঞ্চের নাম করে হামলা চলছে। গত ছ’মাসে ১৫টি অভিযোগে মামলাও রুজু হয়েছে।’’ ক্যাথলিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক জন দয়াল, দেশের প্রাক্তন তথ্য কমিশনার ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্তা আকার পটেল, পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী বিদ্যা দিনকর প্রমুখ সাংবাদিক সম্মেলনে এই নিয়ে সরব হন।
একই সঙ্গে হর্ষ, জহরেরা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বেআইনি এবং তা বাতিল করতেও সরব হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে এবং অন্যত্র বাঙালিদের নিশানা করে বিচারবিভাগকে না-জানিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো বন্ধ হোক বলেও এই মানবাধিকার কর্মীদের দাবি। জহর আরও বলে, ‘‘ফর্ম ৬এ নাম তোলার প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে সবাইকে সুযোগ দেওয়া হোক। যত দিন না ন্যায্য সুযোগ পেয়ে সবার নাম তোলার প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে তত দিন কলকাতা, হাওড়ায় পুরভোটও বন্ধ থাকুক।’’ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও লিখেছেন রাজ্যের প্রাক্তন নির্বাচনীআধিকারিক জহর।