E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিযান দমকলের, প্রতিহিংসার অভিযোগ কালাঘীটের

অভিষেকের দলীয় দফতরে সাইনবোর্ড ভাঙা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড বেধেছিল ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে। হাতাহাতি, ধস্তাধস্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিষেক-সহ দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তলব করেছে শেক্সপিয়র সরণি থানা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২৪
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফকরে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর অভিযান।

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফকরে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর অভিযান। — নিজস্ব চিত্র।

পুলিশি তলবে হাজিরা দেওয়া নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস-বাড়িতে হানা দিল দমকল বাহিনী! ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ঠিকানায় সোমবার দীর্ঘক্ষণ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন দমকল আধিকারিকেরা। ওই ঠিকানায় বারবার অভিযানের পিছনে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ই দেখছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা।

অভিষেকের দলীয় দফতরে সাইনবোর্ড ভাঙা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড বেধেছিল ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে। হাতাহাতি, ধস্তাধস্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিষেক-সহ দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তলব করেছে শেক্সপিয়র সরণি থানা। এই পরিস্থিতিতে এ দিন আচমকাই পুলিশের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে ওই ঠিকানায় পৌঁছন দমকলের আধিকারিকেরা। ওই বাড়ির দু’টি তলা ভাড়া নিয়েছে তৃণমূল। সেখানে মূলত অভিষেকই কাজ করেন। অগ্নিনির্বাপণের যে ব্যবস্থা থাকার কথা, দীর্ঘক্ষণ তা খতিয়ে দেখে দমকলের আধিকারিকেরা ফিরে যান। পরিদর্শনে আসা দলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দু’একটি বিষয়ে অসঙ্গতি আছে বলে মনে হয়েছে। পরে আরও খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, শহরের সব জায়গাতেই অগ্নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকলের অভিযানকে ‘সার্কাস’ বলে উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লিখেছেন, ‘ভোটের এক মাসের মধ্যে চার ইভিএম রহস্যজনক ভাবে ভস্মীভূত হওয়ার আগে দমকলের এই সক্রিয়তা প্রয়োজন ছিল। তা হলে ইভিএম বাঁচত, কিছু মানুষের মুখ পুড়ত’!

সাইনবোর্ড ভাঙার সময়ে সরকারি কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে আজ, মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তলব করা হয়েছিল তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও। ডেরেক এ দিন পুলিশের কাছে যাননি। তিনি সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। আর অভিষেকের আইনজীবী এ নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন তুলে এফআইআর-এর প্রত্যয়িত প্রতিলিপি চেয়েছেন। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুই নেতাকেই ফের তলব করে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ। তার পাশাপাশি, অশান্তির ঘটনায় তলব করে প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ও প্রাক্তন পুর-প্রতিনিধি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ, পুরসভা ও দমকলের এই সব পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। কালীঘাটপন্থী সাংসদ দোলা সেন বলেন, ‘‘ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সরকার খুঁজে খুঁজে তৃণমূলের দফতর বন্ধ করে দিতে চাইছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বেরোতে দেবে না বলছে। মনে রাখতে বলব, সব হিটলারি-শাসকের পরাজয়ই হয়!’’ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, ‘‘আইন না-মানলে অভিযান হতেই পারে। পিসির অভয়ারণ্য এখনও আছে বলে উনি মনে করে থাকলে মুশকিল। তবে ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ড্‌স’ হোক বা ক্যামাক স্ট্রিট, কোনও কার্যকরী ব্যবস্থা না-হলে এই সব অভিযান অর্থহীন, মূল্যহীন! এতে ওঁদের (অভিষেক) অক্সিজেন পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
TMC Fire Brigade Camac street Kolkata Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy