রাতে স্কুটারে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন যুবক-যুবতী। রাস্তায় তাঁদের আটকে মারধর ও লুটপাট করার পরে, যুবতীকে লাগোয়া মাঠে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল বাঁকুড়া জেলায়। বুধবার এই ঘটনার পরে, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে অভিযোগ জানাতে যাওয়ার মতো সাহস ছিল না বলে দাবি যুবতীর। পরে তাঁর অভিযোগ পেয়ে, শনিবার রাতে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝাড়গ্রাম জেলায় এক আদিবাসী নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে।
পুলিশের কাছে যুবতী অভিযোগ করেন, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ এক বন্ধুর সঙ্গে স্কুটারে বেড়াতে বেরোন। একটি গ্রামে এক নির্জন এলাকায় আচমকা দুই যুবক তাঁদের আটকায়। স্কুটারের চাবি কেড়ে, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। ফোনে ভিডিয়ো তুলতে শুরু করে। আরও টাকা দাবি করে। সঙ্গে আর টাকা নেই জানানোয়, তাঁর সঙ্গী যুবককে মারধর করে। তাঁর চশমা ভেঙে যায়। যুবতী জানান, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দুষ্কৃতীদের তিনি টাকা দিতে চাইলেও, তারা রাজি হয়নি। এর পরে ওই যুবককে দূরে আটকে রেখে, যুবতীকে মাঠে টেনে নিয়ে গিয়ে দুই যুবক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। যুবতী জানান, কোনও রকমে তাঁরা বাড়ি ফিরলেও, আতঙ্কে তখনই থানায় যেতে পারেননি। পরে সাহস করে পুলিশে অভিযোগ করেন। পুলিশ গণধর্ষণ, ছিনতাই, মারধর-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে।
বাঁকুড়ার এই থানা এলাকাতেই ২০১৭ সালে এক সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে সরস্বতী পুজো দেখতে বেরোনো এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। সে ঘটনায় দোষীদের ২০ বছরের সাজা হয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, তার পরেও অপরাধ বন্ধ হয়নি। রাস্তায় সে ভাবে পুলিশের টহল দেখা যায় না বলেও অভিযোগ। বাঁকুড়ার এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পরে আইনানুগ সব পদক্ষেপই করা হয়েছে। ওই যুবতীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের শনাক্ত করার জন্য আদালত থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যুবতীর ফরেন্সিক পরীক্ষা করানো হয়েছে।