আদিবাসী বধূর মৃত্যু ঘিরে শোরগোল অব্যাহত বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে। বুধবারই খুনের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দেওয়ার দাবিতে থানায় গেলেন ভারত জাকাত মাঝি পরগনার প্রতিনিধিরা।
সোমবার দেওয়ানদিঘির ক্যানেলপাড় সংলগ্ন মাঠ থেকে বছর পঁচিশের এক আদিবাসী বধূর দেহ উদ্ধারের পরপরই পরিবার অভিযোগ করে, তাঁকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজনের নাম শেখ আজিজুল। অপর জন ভদাই শেখ। দু’জনেরই দেওয়ানদিঘির বাসিন্দা। বুধবার ভোরে ক্ষেতিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আজিজুলকে গ্রেফতার করা হয়। বীরভূমের নানুর এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন দ্বিতীয় অভিযুক্ত। সেখান থেকে তাঁকেও পাকড়াও করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হওয়া তদন্তের প্রেক্ষিতে পুলিশ জানিয়েছে, ওই বধূ গত দেড় মাস ধরে দেওয়ানদিঘিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বার হয়েছিলেন। আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যেরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি মাঠে তাঁর নিথর দেহ মেলে।
আরও পড়ুন:
মৃতার এক আত্মীয় থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। দেহ উপুড় হয়ে পড়ে ছিল। অভিযোগ, বধূকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণ, খুন এবং প্রমাণ লোপাট-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কিছু ধারায় মামলা রুজু হয়। বুধবার সকালেই পাঁচ সদস্যের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।
দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দেওয়ানদিঘি থানার সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বুধবার একই দাবিতে ভারত জাকাত মাঝি পরগনার প্রতিনিধিরাও থানায় গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।