শিশুমৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠছিল। এ বার সে নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দফতর। বন্ধই করে দেওয়া হল পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাটের একটি নার্সিংহোম।
লাইফ কেয়ার নামে একটি বড় নার্সিংহোম রয়েছে নবাবহাটে। সম্প্রতি চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। তদন্তে নেমে রোগীর নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি এবং গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই নার্সিংহোমের সমস্ত পরিষেবা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) জয়রাম হেমব্রমের সই করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ওই নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়। তার প্রেক্ষিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, কেস শিট-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তাদের রিপোর্ট জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, সন্তানের মৃত্যুতে বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব মৃত শিশুর পরিবার। মৃতের মা শিল্পা রায়ের দাবি, ঘটনার পর থেকে তাঁরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং সিএমওএইচ দফতরে জানানোর পাশাপাশি ধর্নায় বসেছেন। থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। দোষী চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য শাস্তি হয়, এটাই তাঁদের আবেদন।
পরিবারের আরও দাবি, এ পর্যন্ত কৌশিক দত্ত নামে একজনকে গ্রেফতার করা হলেও চিকিৎসক হিসাবে পরিচিত শহিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিশুর মায়ের কথায়, ‘‘আমার সন্তান যেন সঠিক বিচার পায়, সুবিচার পায়।’’