E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘পুরুষ লক্ষ্মীরা’ ভাতা পেতেন, ধৃত প্রধান

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া ১ ব্লকের আলমপুর পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামে অনেক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ০০:৫৩

—প্রতীকী চিত্র।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ঘিরে বিস্তর শোরগোল হয়েছে রাজ্যে। এ বার এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূল পরিচালিত কাটোয়ার আলমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মোল্লা নজরুল ইসলাম ওরফে বাবলুকে। তাঁর বাড়ি কাটোয়ার অর্জুনডিহি গ্রামে। শুক্রবার ধৃতকে কাটোয়া এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পাঁচ দিন পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া ১ ব্লকের আলমপুর পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামে অনেক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকত। ওই প্রকল্পে জনজাতি শ্রেণির উপভোক্তাদের ১২০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হত। অভিযোগ, অনেক সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলাকে তফসিলি জাতিভুক্ত দেখিয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল। এমনকি স্বামী ও স্ত্রী, উভয়ের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা গিয়েছিল। অভিযোগ, এ সবই করতেন আলমপুর গ্রামের এক বাসিন্দা। তিনি কাটোয়া ১ ব্লক কার্যালয়ে চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। অভিযোগ, প্রধানের সঙ্গে যোগসাজস করে তিনি বেশ কয়েকটি গ্রামের বহু পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। বিনিময়ে প্রত্যেক মাসে ৩০০-৪০০ টাকা নেওয়া হত।

গত ৯ জুলাই কাটোয়া থানায় নজরুল এবং ওই ব্যক্তির নামে লিখিত অভিযোগ করেন আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ অধিকারী। তিনি নিজেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পেতেন। দীনেশের কথায়, “আমাকে দু'বার লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাইয়ে দিয়েছিল। প্রথমে আমি জানতে পারিনি। পরে বুঝতে পেরে বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে তা জানিয়ে আসি। এটা কী করে সম্ভব? তার পরেই দুর্নীতি সামনে আসে।” আলমপুর গ্রামের সুখেন মণ্ডল নামে আর এক যুবকের অ্যাকাউন্টে প্রত্যেক মাসে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকেছিল। একই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন সুখেনের স্ত্রী রূপাও। রূপা বলেন, “আমার স্বামীকে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাঠানো হত। বিনিময়ে প্রত্যেক মাসে ৪০০ টাকা দিতে হত। অন্যায় জেনেও আমাদের কিছু করার ছিল না।’’ স্থানীয় সূত্রের খবর, গ্রামের এক বাসিন্দা হায়দরাবাদে পরিয়ায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর অ্যাকাউন্টেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকেছে। এ ছাড়া, এমন অনেক পুরুষের সন্ধান মিলেছে, যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কয়েক বছর ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকছিল।

আলমপুর অঞ্চলের ২৪২ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি সোমনাথ হাজরা বলেন, “বছরের পর বছর পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে যোগসাজস করে এ সব দুর্নীতি করত ওই ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। ওদের ভয়ে আগে কিছু বলতে পারতাম না। মহিলাদের জন্য সরকার ভাতা প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু পুরুষদের অ্যাকাউন্টে সেই প্রকল্পের টাকা ঢুকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ওদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Lakkhir Bhandar TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy