Advertisement
E-Paper

কুপনে গেরুয়া পতাকা, সংগঠনের নাম নেই, বাসপিছু টাকা তোলা ঘিরে বিতর্ক বর্ধমানে! ব্যাখ্যা সংঘের শ্রমিক শাখার

গত চার-পাঁচ দিন ধরে গুসকরা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো প্রতিটি বাস থেকে ৩০-৪০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে একটি কুপন। সেই কুপনে কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নাম নেই, রয়েছে গেরুয়া পতাকার ছবি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ অগস্ট ২০২৬ ২০:২৬
যে কুপন ঘিরে বিতর্ক।

যে কুপন ঘিরে বিতর্ক। —নিজস্ব চিত্র।

কুপনে লেখা ‘গুসকরা বাস শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন’। তার উপরে গেরুয়া ধ্বজার ছবি। ওই কুপন দিয়ে বাসপিছু ৩০-৪০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়। তবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শ্রমিক শাখা ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর দাবি, ওটা অনুদান।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত চার-পাঁচ দিন ধরে গুসকরা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো প্রতিটি বাস থেকে ৩০-৪০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে একটি কুপন। সেই কুপনে কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নাম নেই, রয়েছে গেরুয়া পতাকার ছবি। এই নিয়ে শাসকদলকে নিশানা করেছে কংগ্রেস।

কয়েক মাস আগে পর্যন্ত গুসকরা বাসস্ট্যান্ডটি পরিচালনা করত তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন। তাদের ইউনিয়ন অফিসও ছিল। বিভিন্ন রুটের বাস পরিচালিত হত ওই অফিস থেকে। বিধানসভা নির্বাচনের পর বদল ঘটেছে সেখানেও। এখন ইউনিয়ন অফিসের সাদা-নীল রং বদলে গেরুয়া হয়েছে। লাগানো হয়েছে বিজেপির পতাকার পাশাপাশি ভারতীয় মজদুর সংঘ বা বিএমএসের পতাকা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বাসকর্মীরা বলছেন, বাসস্ট্যান্ডে ঢোকা প্রত্যেকটি বাস থেকে গুসকরা পুরসভা দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা প্রবেশ ফি আদায় করে। পুরসভার কর্মীরা সরকারি কুপনের মাধ্যমে ওই অর্থ সংগ্রহ করেন। সেটা আগের মতোই আছে। চলতি মাসের শুরু থেকে বাসপিছু আরও ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই টাকা নেওয়ার সময় হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গেরুয়া পতাকার ছবি-সহ কুপন। কিন্তু কোনও সংগঠনের নাম উল্লেখ নেই তাতে। কারা নিচ্ছে এই টাকা?

ভারতীয় মজদুর সংঘের জেলা সভাপতি মাধব দাস জানিয়েছেন কুপন তাঁদেরই। তাঁর দাবি, ‘‘রাজ্য, জেলা বা কেন্দ্রীয় বিএমএস সরাসরি কোনও টাকা নিচ্ছে না। অনুমতিসাপেক্ষে গুসকরা বাস শ্রমিক সংগঠন ওই অনুদান সংগ্রহ করছে।’’ অনুমতি ঠিক কার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, পরিষ্কার করেননি তিনি। তবে মাধবের কথায়, ‘‘বাসস্ট্যান্ডে পরিষেবা দেওয়া কর্মীদের ন্যূনতম খরচ মেটাতেই অনুদান নেওয়া হচ্ছে।’’

সংগঠনের নামবিহীন কুপনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। বিষয়টি নিয়ে মুখ না-খুললেও ক্ষুব্ধ বাসমালিকদের একাংশ। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দারের কটাক্ষ, ‘‘একটি তোলাবাজ দল গিয়েছে। আর একটি তোলাবাজ দল ক্ষমতায় এসেছে।’’

Guskara bus stand

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy