E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দুর্গাপুজোর আগে বৈঠক, ডিজে নিয়ে কড়া সতর্কর্তা

৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুজোর উৎসব এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানোয় নিষেধাজ্ঞার কথা জানান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৫১
দুর্গা প্রতিমা।

দুর্গা প্রতিমা।

দুর্গাপুজোর আগে বর্ধমান থানার অধীন ৩৭৯টি পুজো কমিটিকে নিয়ে বৈঠক করল পুলিশ প্রশাসন। রবিবার বিকেলে বর্ধমান টাউন হলে আয়োজিত ওই বৈঠকে পুলিশ ছাড়াও ছিলেন দমকল ও বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকেরা। পুজোর অনুমতি, সরকারি অনুদানের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া, রাতে মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক রাখা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দদূষণ। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার কথা তুলে পুজো ও বিসর্জনে ডিজে না বাজানোর বিষয়ে কমিটিগুলিকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুজোর উৎসব এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানোয় নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। সেই নির্দেশের পরেই জেলার পুজো কমিটিগুলিকে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানাল পুলিশ। ফলে এ বার পুজোর অনুমতির সঙ্গে শব্দবিধি মেনে চলার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে থাকছে। তবে শুধু উৎসবের মরসুমে নয়, সারা বছর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া নজরদারির দাবি উঠেছে বর্ধমান শহরে। এক বাসিন্দা মুখ্যমন্ত্রী, পরিবেশমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, পরিবেশসচিব, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিককে ই-মেল করে এই আবেদন জানিয়েছেন।

ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ডিজে নিষিদ্ধ করাই যথেষ্ট নয়। সাউন্ড বক্স, অ্যামপ্লিফায়ার বা লাউডস্পিকার ব্যবহারেও একই ভাবে অতিরিক্ত শব্দ হলে শব্দদূষণের সমস্যা থেকেই যাবে। আবেদনকারীর বক্তব্য, শব্দের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শব্দযন্ত্র ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। হাসপাতাল, নার্সিংহোম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আদালতের মতো ‘সাইলেন্স জ়োন’-এর আশপাশে নিয়ম আরও কঠোর ভাবে কার্যকর করার আর্জি জানানো হয়েছে। শব্দবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুজো সংক্রান্ত নথিতেও মাইক্রোফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা প্রশাসনের অনুমতির কথা উল্লেখ রয়েছে।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গণেশ পুজো থেকে দোল পর্যন্ত দীর্ঘ উৎসবের মরসুমে বিশেষ ‘নয়েজ় মনিটরিং সেল’ তৈরি করা হোক। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রবেশিকা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে বিশেষ শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জানানোর জন্য দ্রুত কার্যকর ফোন বা ডিজিটাল ব্যবস্থা, নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পুজোর অনুমতি দেওয়ার সময় প্রতিটি কমিটিকে শব্দবিধি লিখিত ভাবে জানানোর দাবিও রয়েছে ওই ই-মেলে।

আবেদনকারীর বক্তব্য, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখে অন্যের ঘুম, স্বাস্থ্য, পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার রক্ষা করতে হবে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সতর্কতার পাশাপাশি কড়া নজরদারি চালানো হবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
DJ Music Bardhaman

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy