শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘দেবদাস’-এ রয়েছে কালনার নান্দাই পঞ্চায়েতের হাতিপোতা গ্রামের নাম। জনশ্রুতি, ‘দেবদাস’ লেখার আগে নদীপথে এই গ্রামে এসেছিলেন কথাশিল্পী। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে শুনেছিলেন এলাকার জমিদারবাড়ির নানা গল্প। তাঁর স্মৃতি ঘিরেই মঙ্গলবার হাতিপোতা গ্রামে সাড়ম্বরে পালিত হল কথাশিল্পীর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী।
গ্রামের শেষ প্রান্তে রয়েছে হাতিপোতা প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই স্কুলে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিল স্থানীয় দেবদাস স্মৃতি রক্ষা কমিটি। সোমবার উদ্যোক্তাদের তরফে আয়োজন করা হয়েছিল বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবির। মঙ্গলবার স্কুল প্রাঙ্গণে মঞ্চ করে অনুষ্ঠান হয়। ছিলেন স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন সহকারী স্কুল পরিদর্শক বিদ্যাধর মুখোপাধ্যায়-সহ সাহিত্যপ্রেমী মানুষ। স্কুলে ঢোকার মুখেই রয়েছে শরৎচন্দ্রের আবক্ষ মূর্তি। সেখানে মাল্যদান করেন পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার।
লেখকের জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা চলে। ‘দেবদাস’ কেন এত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তা নিয়েও আলোকপাত করেন বক্তারা। সারা দিনের অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের নিয়ে আঁকা প্রতিযোগিতা-সহ নানা আয়োজন করা হয়। হাতিপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বসিরআলি শেখ জানান, কথাশিল্পীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী দিনে আরও কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের। প্রাক্তন স্কুল পরিদর্শক বিদ্যাধর মুখোপাধ্যায় ছোট ছোট স্কুল পড়ুয়াদের উদ্দেশে জানান, সমাজের বিভিন্ন দিকের ছবি শরৎচন্দ্র তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি শরৎচন্দ্র পশু-পাখিপ্রেমী ছিলেন।
অনুষ্ঠান থেকে হাতিপোতা গ্রামে একটি সংগ্রহশালা তৈরির দাবি ওঠে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এই সংগ্রহশালায় গ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হাতির চোয়ালের অংশ, গ্রামের জমিদার ভুবনমোহন চৌধুরীর নায়েবের হাতে লেখা পুরনো হিসাবের খাতা-সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা যেতে পারে।