বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে কর্মরত এক মুহুরির কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই মুহুরি কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় কয়েক জন বিজেপি নেতার নামও জানিয়েছেন পুলিশকে। তবে এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রমাণ করতে না-পারলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মানহানির পাল্টা মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
কাটোয়ার পানুহাটের আদর্শপল্লির বাসিন্দা সুজন ঘোষ। এলাকার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কাছেই তাঁর বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে খবর, সরকারি জায়গায় তাঁর দোকান রয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি তিনি সরকারি ওই দফতরে মুহুরির কাজও করেন। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ লাঠি, রড, শাবল-সহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন কয়েক জন। নিজেদের বিজেপি নেতা এবং কর্মী বলে তাঁরা পরিচয় দেন। অভিযোগপত্রে বিশ্বজিৎ অধিকারী ওরফে গুপি, অতনু সাহা, ধীরাজ দাসদের নাম উল্লেখ করেছেন সুজন। অভিযোগ, বিশ্বজিৎ বিজেপির কাটোয়া নগর মণ্ডল কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বাকিরাও বিজেপি কর্মী হিসাবে এলাকায় পরিচিত।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, পাঁচ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় সুজনের কাছ থেকে। টাকা না-দিলে সরকারি দফতরে তাঁকে কোনও কাজ করতে দেওয়া হবে না এবং এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। দাবি, কাটোয়া নগর মণ্ডল কমিটির সভাপতি সুমন দেবনাথের নির্দেশে তাঁর কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে, জানান হামলাকারীরা। প্রাথমিক ভাবে সুজন ২০ হাজার টাকা তাঁদের দিয়েও দেন। বাকি টাকা দিতে না-চাইলে তাঁকে মারধর করা হয়। অভিযোগ, শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুনের চেষ্টাও করা হয়েছিল।
শুক্রবার সকালেই থানায় গিয়ে বিষয়টি বিশদে জানান অভিযোগকারী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সুমন স্বয়ং। তাঁর কথায়, ‘‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ৪ মে-র পরে যাঁরা বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন, এটা তাঁদের চক্রান্ত। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আমি মানহানির মামলা করব।’’ ঘটনার নিন্দা করেছেন এলাকার কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার। বলেন, ‘‘ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির তৃণমূলীকরণ হচ্ছে। দিকে দিকে তোলাবাজি চলছে। এই সরকারের মুখে এক আর কাজে আর এক।’’ অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা দেব টুডু আবার বলেছেন, ‘‘সব জায়গায় একই অভিযোগ। এদের বিরুদ্ধে শাসকদল কী ব্যবস্থা নেয়, দেখব।’’