E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দুর্ঘটনা সত্ত্বেও লকগেটে ভিড় রণডিহায়

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর জুন মাসে কাঁকসার ২ নম্বর কলোনি থেকে আট তরুণ গিয়েছিলেন বুদবুদের রণডিহায়। সেখানে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হয় তিন তরুণের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০৩:০০
দামোদরের তীরে ভিড়, বুদবুদের রণডিহা লকগেটের কাছে।

দামোদরের তীরে ভিড়, বুদবুদের রণডিহা লকগেটের কাছে। — নিজস্ব চিত্র।

গত কয়েক বছরে বিপজ্জনক ভাবে দমোদরে নেমে নিজস্বী তুলতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক জনের। তার পরেও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজনের হুঁশ ফেরেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, সব নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বিপজ্জনক ভাবে দামোদরে নামার ধুম পড়ে গিয়েছে বুদবুদের রণডিহা লকেগেটের কাছে। এলাকাবাসীর দাবি, বাইরে থেকে আসা মানুষজনকে সাবধান করতে গিয়ে জুটছে দুর্ব্যবহারও। সমস্যা মেটাতে সর্বক্ষণের পুলিশি নজরদারির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর জুন মাসে কাঁকসার ২ নম্বর কলোনি থেকে আট তরুণ গিয়েছিলেন বুদবুদের রণডিহায়। সেখানে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হয় তিন তরুণের। ২০২০ সালের ৩১ মে লকগেটের নীচে নেমে মোবাইলে ছবি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয় দুর্গাপুরের গোপালমাঠের এক যুবকের। ২০২১ সালের জুলাইয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে জন্মদিনে দামোদরে তলিয়ে মৃত্যু হয় আরও এক যুবকের। ২০২৪ সালে মকর সংক্রান্তির দিন বিকেলে দামোদরে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান এক তরুণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে মৃতদের বয়স ১৬ থেকে ১৮-র আশপাশে।

এলাকাবাসীর দাবি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা ছাড়াও, বাঁকুড়ার সোনামুখী থেকেও বহু মানুষ প্রতিদিন রণডিহায় বেড়াতে আসেন। অনেকে লকগেটের নীচে দাঁড়িয়ে নিজস্বী তোলেন, স্নান করেন। অনেকে আবার মদ্যপানও করেন বলে অভিযোগ। বাইরে থেকে অনেকে মাছেৃ ধরার টানেও এখানে আসেন। অভিযোগ, অনেকের মধ্যেই সুরক্ষাবিধি মানার ইচ্ছে দেখা যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা অরূপ জানা বলেন, ‘‘কেউ নদে স্নান করতে নামলে স্থানীয় জেলেরা নিষেধ করেন। কিন্তু বাইরে থেকে আসা মানুষজন তাঁদের তোয়াক্কা করেন না। অনেক সময়ে দুর্ব্যবহারও করেন।’’ স্থানীয় মৎস্যজীবী সনাতন সাহার কথায়, ‘‘দুর্ঘটনা রুখতে সেচ দফতর লকগেটে নামার রাস্তা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। সেখানে জলে নামা, স্নান করা ও নিজস্বী তোলায় নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে বোর্ডও দেওয়া আছে। কিন্তু অনেকেই সেই নিষেধ না মেনে লকগেটের নীচে নেমে পড়ছেন।’’

তাঁদের দাবি, বর্ষায় অনেকটাই জল বেড়েছে দামোদরে। পর্যটকেরা নিষেধাজ্ঞা না মানায় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, মাঝেমধ্যে এলাকায় পুলিশ টহল দেয়। টহলের সময়ে সকলকে সরিয়ে দেওয়াও হয়। কিন্তু পুলিশ চলে গেলেই সকলে আবার আগের জায়গায় ফিরে যান। এলাকাবাসীর দাবি, সমস্যা মেটাতে এলাকায় সর্বক্ষণের জন্য পুলিশ বা সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা প্রয়োজন।

পুলিশ জানায়, নিয়মিত নজরদারি নিয়মিত চলছে। ওই জায়গায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Safety awareness

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy