রাজ্যে পালাবদলের পর তোলাবাজি, কাটমানি নিয়ে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথা বার বার বলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তার পরেও বহু জায়গায় বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে, যা নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় রাজ্যের শাসকদল। এ বার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে লক্ষাধিক টাকা ‘তোলা’ চাওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ হল বিজেপি। নেতা-কর্মীদের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল জামালপুরে।
লরিতে বালি তোলার সময় টাকা চাওয়ার অভিযোগ। জানা গিয়েছে, জামালপুরের চৌবেড়িয়া এলাকায় মেমারি-তারকেশ্বর রোডের ধারে বালি মজুত করে রেখেছিলেন ঘাটের ইজারাদার সৈয়দ নিয়াজউদ্দিন। অভিযোগ, সোমবার রাতে আচমকাই সেখানে দলবল নিয়ে সেখানে পৌঁছোন বিজেপির জামালপুর-১-এর মণ্ডল সম্পাদক বসন্ত পাঁজা। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুই বুথ সভাপতি ভাগ্য ক্ষেত্রপাল ও প্রদীপ চৌধুরীও। নিয়াজউদ্দিনের দাবি, বৈধ চালান নিয়ে ট্রাক্টরে বালিবোঝাই করে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠানো হচ্ছিল। তার পরেও তাঁর থেকে টাকা চান বসন্তেরা।
সোমবার মধ্যরাতে বালি কারবারিদের সঙ্গে বচসায় জড়ান বসন্তেরা। নিয়াজউদ্দিনের অভিযোগ, অনুমোদিত স্টক পয়েন্ট থেকে বৈধ চালান-সহ বালি পাঠানো হচ্ছিল। সেই সময় বিজেপি কর্মী পরিচয় দিয়ে কয়েক জন সেখানে গিয়ে ট্রাক্টর আটকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তাঁর দাবি, তাঁরা ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ‘তোলা’ চেয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি জামালপুর থানার ওসি এবং বিধায়ক অরুণ হালদারকে জানান। তোলা চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বসন্ত-সহ চার জনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জামালপুর থানার পুলিশ। বসন্তদের উদ্ধার করে তারা। বিধায়কের নির্দেশে মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালও ঘটনাস্থলে যান। যদিও তোলা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসন্ত। তাঁর দাবি, আঝাপুর থেকে ফেরার পথে বালিবোঝাই একাধিক ট্রাক্টর দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। এর পর তাঁরা চৌবেড়িয়ায় গিয়ে বালির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। সেই সময়ই বালি মজুতের জায়গায় থাকা লোকজনের সঙ্গে তাঁদের তর্কাতর্কি শুরু হয় বলে দাবি তাঁর।
আরও পড়ুন:
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলও। বসন্তের অভিযোগ, প্রধানচন্দ্রের পাঠানো প্রায় ৫০ জন লোক ওই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের মারধর করেন। পরে তোলা চাওয়ার অপবাদ দেন। প্রধানচন্দ্রের দাবি, দলেরই কয়েকজন পদাধিকারী গভীর রাতে বালি কারবারির জায়গায় ‘তোলা’ তুলতে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অতীতেও তাঁরা বালিঘাটে তোলাবাজি করেছেন। রাজ্য নেতৃত্বকে গোটা বিষয়টা জানাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানচন্দ্র।
সোমবার রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু এবং জামালপুরের বিধায়কের মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে। স্মৃতিকণার দাবি, কেউ টাকা চেয়েছেন বা নিয়েছেন, এমন কোনও প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। যদিও জামালপুরের বিধায়ক অরুণের দাবি, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন যাঁরা গভীর রাতে তোলা তুলতে গিয়ে ঝামেলায় জড়াচ্ছেন, তাঁদের দলে রাখা হচ্ছে কেন, সেটিও ভাবতে হবে।