শস্যগোলা বর্ধমানে কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ধান বিক্রিতে কুইন্টালে ২০০ টাকা অতিরিক্ত দেবে সরকার। পশ্চিমবঙ্গের শস্যগোলা হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমানের মাটিতে দাঁড়িয়ে কৃষকদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানালেন, ধান কেনার সময় কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা অতিরিক্ত করে দেবে রাজ্য।
শুক্রবার বর্ধমানের পুলিশ লাইন মাঠে প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ভর্তুকি, ধানের সহায়ক মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান, কৃষক বন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্প নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। ভিবিজি-রামজি প্রকল্পের আওতায় ১২৫ দিনের কাজ এবং আলুচাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘কৃষিকাজে বৈদ্যুতিক পাম্পসেট ব্যবহারকারী রাজ্যের চার লক্ষেরও বেশি কৃষক এ বার থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে দু’টাকা করে ভর্তুকি পাবেন।’’ ফলে কৃষকদের বছরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। এই খাতে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্পে কেন্দ্রের দেওয়া বছরে ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকার আরও তিন হাজার টাকা দেবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। ফলে কৃষকেরা এ বার বছরে মোট ৯ হাজার টাকা পাবেন। এতে রাজ্যের ৫৪ লক্ষ কৃষক পরিবার উপকৃত হবেন বলে দাবি তাঁর। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের যাচাইয়ের কাজ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এক শতক জমি থাকা কৃষকেরাও বছরে এককালীন চার হাজার টাকা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধির সুবিধা পান না এবং ৪০ শতকের বেশি কৃষিজমি রয়েছে, এমন কৃষকদের বছরে ছ’হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।’’
ধান কেনার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কুইন্টাল প্রতি ধানের নির্ধারিত ২,৫০০ টাকার সঙ্গে আরও ২০০ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, কুইন্টাল প্রতি মোট ২,৭০০ টাকা পাবেন কৃষকেরা। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনও মধ্যস্বত্বভোগী থাকবেন না। ধান বিক্রির কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলেই সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা পাবেন কৃষকেরা।’’
কৃষকদের সহায়তায় সমবায়, ক্ষুদ্র সেচ ও উদ্যানপালন ক্ষেত্রকে আরও যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আলুচাষিদের জন্য ভর্তুকি, সরকারি উদ্যোগে সার সরবরাহ এবং বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ১২৫ দিনের কাজের আওতায় গাছ লাগানো থেকে গাছের রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তা ও কালভার্ট তৈরি, পুকুরের কাজ, আইসিডিএস কেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল এবং সেচ-সহ ৩১৭ রকমের কাজ করা যাবে বলে জানিয়েছেন। প্রত্যেক জব কার্ডধারীকে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি এবং বছরে ৩৪,৫০০ টাকা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন:
প্রশাসনিক সভা থেকে ভাতারের মহাচন্দায় ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাবস্টেশন-সহ হুগলির ধনেখালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এবং বিষ্ণুপুরের দৌলতপুরে আরও তিনটি সাবস্টেশনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মেমারি-তারকেশ্বর রোডে নির্মিত নতুন সেতুরও উদ্বোধন করেন তিনি। পূর্ব বর্ধমানে আয়ুষ্মান প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা ৩৩ লক্ষ ১৫ হাজার ১৭ হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।