ক্রেতাদের কাছ থেকে আনাজের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে রবিবার গলসি বাজারে অভিযান চালায় পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন। ক্রেতাদের একটা বড় অংশের দাবি, অভিযানই সার। সোমবারই কাঁচা আনাজের দাম বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। অভিযানের সময় পুলিশ, প্রশাসনের কর্তাদের কাছে দাম একটু কমিয়ে বললেও পরের দিনই কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা অবদি দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা, এমনটাই অভিযোগ ক্রেতাদের।
সোমবার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচালঙ্কা প্রায় দেড়গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি কাঁচা লঙ্কার দাম রবিবার ছিল ১০০ টাকা, এ দিন ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোনও কোনও বিক্রেতা আবার নিচ্ছেন ১৮০ টাকা। পেঁয়াজ, আলুর দামও বেশি নিচ্ছেন ক্রেতারা। বেগুন রবিবার ছিল ৬০ টাকা, এ দিন বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, অভিযানের পরে আনাজের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
খুচরো বিক্রেতাদের যদিও দাবি, আনাজের জোগান কম থাকায় দাম বেশি পড়েছে। গলসির অরূপ মুখ্যোপাধায়, কার্তিক কোঙারেরা বলেন, ‘‘রবিবার বাজারে আনাজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কমিয়ে দিয়েছিলেন খুচরো বিক্রেতারা। তার পরেই আবার বাজার অগ্নিমূল্য।’’ যদিও বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার জন্যই দাম বাড়িয়েছেন তাঁরা।
রবিবার গলসি বাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিডিও (গলসি ২) সঞ্জীব দাস। সঙ্গে ছিলেন গলসি থানার ওসি কৃপাসিন্ধু ঘোষ। তাঁরা খুচরো বিক্রেতা, পাইকারি বাজার ঘুরে দেখেন। কথা বলেন কয়েক জন ক্রেতাদের সঙ্গে। এ দিনের দাম বাড়ারও খবর পেয়েছেন তাঁরা।
গলসির বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিজয় ধাড়া বলেন, ‘‘ফড়েদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তাই আনাজের দাম চড়া। আড়াই মাসের সরকার। বাজারে ঘুরে প্রশাসন নজর রাখছে। দ্রুত ফড়ে রাজ ধ্বংস হবে।’’
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, ‘‘এলাকা ভিত্তিতে দাম কিছুটা বাড়িয়েই বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। প্রশাসন নজর রাখছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সর্বত্র নজরদারি চালানো হচ্ছে। অবৈধ ভাবে দাম বাড়ানোযাবে না।’’
দামের দৌড়
আদা: ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা
রসুন: ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা
টোম্যাটো: ৩০ থেকে ৫০ টাকা
কাঁচা লঙ্কা: ১০০ থেকে ১৫০ টাকা
কাঁকরোল: ৩০ থেকে ৬০ টাকা
পটল: ৩০ থেকে ৪০ টাকা
শশা: ৪০ থেকে ৬০ টাকা
মিষ্টি কুমড়ো: ২০ থেকে ৩০ টাকা
ঝিঙে: ৪০ থেকে ৬০ টাকা
সব দাম কেজিতে