E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ফসলের দাম অমিল, কাটছাঁট লক্ষ্মীর আরাধনায়

গ্রামের মানুষ শহরে এসে পুজোর বাজার করেন। তাঁদের বড় অংশ চাষের উপরে নির্ভরশীল। চাষি রতন ঘোষ বলেন, ‘‘মাঠের লক্ষ্মীর অবস্থা ভাল নয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩২
কালনার ধর্মডাঙায় লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপ তৈরি।

কালনার ধর্মডাঙায় লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপ তৈরি। নিজস্ব চিত্র।

বেশির ভাগ ফসলেরই লাভজনক দর মেলেনি। ঘরে লক্ষ্মীও তেমন নেই। সংসারে টানাটানি সয়ে ধনদেবীর আরাধনা করতে হচ্ছে চাষিদের।

কালনা মহকুমায় কয়েক হাজার বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। আসেন আত্মীয়-প্রতিবেশীরা। কিছু ক্লাবে ধুমধাম করে পুজো হয়। শনিবার বিকেলে শুরু হয়েছে কেনাকাটা। চকবাজারে মূর্তির পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের দাবি, মূর্তির দাম বেড়েছে ৫০-২৫০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতা গৌতম পাল জানান, ট্রাক পিছু আড়াই ফুট উচ্চতার মাটির দাম ৪৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৬০ হাজার টাকা হয়েছে। মূর্তির দাম তো বাড়বেই। কাছেই আনাজ, ফল, মিষ্টির দোকান। বাজার সেরে ফেরার পথে পূর্ণিমা মণ্ডল বলেন, ‘‘বাঘনাপাড়া গ্রাম থেকে শহরে এসে পুজোর বাজার করি। এ বার সব জিনিসের দাম বেশি। মাখা সন্দেশ কিনতে হয়েছে ৪২০ কেজি দরে। জিনিসপত্র বাধ্য হয়েই কম কিনেছি।’’

গ্রামের মানুষ শহরে এসে পুজোর বাজার করেন। তাঁদের বড় অংশ চাষের উপরে নির্ভরশীল। চাষি রতন ঘোষ বলেন, ‘‘মাঠের লক্ষ্মীর অবস্থা ভাল নয়। হিমঘরে মজুত আলুর দর তলানিতে। উৎসবের মরসুমে পেঁয়াজের দর বাড়লেও জমি থেকে ওঠার সময়ে বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি পাঁচ-ছ’টাকা দরে। ধানেরও ভাল দর নেই। পাটের লাভজনক দর মিললেও কম চাষিই পাটচাষে যুক্ত। চাষিদের কাছে বছরটা ভাল যায়নি। লক্ষ্মীপুজোয় অনেকেই খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছেন।’’

ক্লাব এবং বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে যুক্ত বেশির ভাগই পেশায় চাষি। কালনা ২ ব্লকের হিজুলি গ্রামের পুজো বহু পুরনো। জনশ্রুতি রয়েছে, গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বেহুলা নদীর জল উপচে ফসল নষ্ট করত। ফসল বাঁচাতে দেবীর আরধনা শুরু হয়। সেখানে নিউ তরুণ সঙ্ঘের পুজোর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। পুজো কমিটির সদস্য বিভাস মালিক জানান, ‘‘চাঁদা তুলে লক্ষ্মীপুজো হয়। বেশির ভাগ পরিবার ফসল বিক্রির টাকা থেকে চাঁদা দেয়। এ বার শসা ভাল হয়নি। নানা রোগে জমিতে গাছ মরেছে। যে যত টুকু পারছেন চাঁদা দিচ্ছেন।’’ এরই মধ্যে থিমের পুজো করছেন অনেকে। কালনা ১ ব্লকের ধর্মডাঙা পল্লিশ্রী ক্লাবের পুজোও বহু পুরানো। এখানে পুজো পাঁচ দিনের। মূর্তির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। পুজোয় গ্রামে মেলা হয়। রীতি মেনে পুজোর শেষ দিন দেবীর বাহন পেঁচাকে ঘোরানো হয় বাড়ি বাড়ি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bardhaman Laxmi Puja

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy