বেশির ভাগ ফসলেরই লাভজনক দর মেলেনি। ঘরে লক্ষ্মীও তেমন নেই। সংসারে টানাটানি সয়ে ধনদেবীর আরাধনা করতে হচ্ছে চাষিদের।
কালনা মহকুমায় কয়েক হাজার বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। আসেন আত্মীয়-প্রতিবেশীরা। কিছু ক্লাবে ধুমধাম করে পুজো হয়। শনিবার বিকেলে শুরু হয়েছে কেনাকাটা। চকবাজারে মূর্তির পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের দাবি, মূর্তির দাম বেড়েছে ৫০-২৫০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতা গৌতম পাল জানান, ট্রাক পিছু আড়াই ফুট উচ্চতার মাটির দাম ৪৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৬০ হাজার টাকা হয়েছে। মূর্তির দাম তো বাড়বেই। কাছেই আনাজ, ফল, মিষ্টির দোকান। বাজার সেরে ফেরার পথে পূর্ণিমা মণ্ডল বলেন, ‘‘বাঘনাপাড়া গ্রাম থেকে শহরে এসে পুজোর বাজার করি। এ বার সব জিনিসের দাম বেশি। মাখা সন্দেশ কিনতে হয়েছে ৪২০ কেজি দরে। জিনিসপত্র বাধ্য হয়েই কম কিনেছি।’’
গ্রামের মানুষ শহরে এসে পুজোর বাজার করেন। তাঁদের বড় অংশ চাষের উপরে নির্ভরশীল। চাষি রতন ঘোষ বলেন, ‘‘মাঠের লক্ষ্মীর অবস্থা ভাল নয়। হিমঘরে মজুত আলুর দর তলানিতে। উৎসবের মরসুমে পেঁয়াজের দর বাড়লেও জমি থেকে ওঠার সময়ে বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি পাঁচ-ছ’টাকা দরে। ধানেরও ভাল দর নেই। পাটের লাভজনক দর মিললেও কম চাষিই পাটচাষে যুক্ত। চাষিদের কাছে বছরটা ভাল যায়নি। লক্ষ্মীপুজোয় অনেকেই খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছেন।’’
ক্লাব এবং বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে যুক্ত বেশির ভাগই পেশায় চাষি। কালনা ২ ব্লকের হিজুলি গ্রামের পুজো বহু পুরনো। জনশ্রুতি রয়েছে, গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বেহুলা নদীর জল উপচে ফসল নষ্ট করত। ফসল বাঁচাতে দেবীর আরধনা শুরু হয়। সেখানে নিউ তরুণ সঙ্ঘের পুজোর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। পুজো কমিটির সদস্য বিভাস মালিক জানান, ‘‘চাঁদা তুলে লক্ষ্মীপুজো হয়। বেশির ভাগ পরিবার ফসল বিক্রির টাকা থেকে চাঁদা দেয়। এ বার শসা ভাল হয়নি। নানা রোগে জমিতে গাছ মরেছে। যে যত টুকু পারছেন চাঁদা দিচ্ছেন।’’ এরই মধ্যে থিমের পুজো করছেন অনেকে। কালনা ১ ব্লকের ধর্মডাঙা পল্লিশ্রী ক্লাবের পুজোও বহু পুরানো। এখানে পুজো পাঁচ দিনের। মূর্তির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। পুজোয় গ্রামে মেলা হয়। রীতি মেনে পুজোর শেষ দিন দেবীর বাহন পেঁচাকে ঘোরানো হয় বাড়ি বাড়ি।