E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শুশুক দেখতে ভিড়, জোর সচেতনতায়

কাটোয়ার ভাগীরথীতে কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকা গাঙ্গেয় শুশুকের বিচরণক্ষেত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫৭
শুশুকের খেলা। কাটোয়ায়।

শুশুকের খেলা। কাটোয়ায়। ছবি: অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়

গাঙ্গেয় শুশুকের জলকেলির দৃশ্য মন কাড়ছে পর্যটকদের। বর্ষার মরসুমে কাটোয়ার অজয় ও ভাগীরথী মোহনায় ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ। কেউ ক্যামেরায়, কেউ বা মুঠো ফোনে ফ্রেমবন্দি করছেন বিরল নানা দৃশ্য। এই সুযোগে গাঙ্গেয় শুশুক সংরক্ষণে সচেতনতা প্রচারে নেমেছে বনদফতরও।

কাটোয়ার ভাগীরথীতে কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকা গাঙ্গেয় শুশুকের বিচরণক্ষেত্র। শাঁখাই ঘাটে বনদফতর গড়ে তুলেছে গাঙ্গেয় শুশুক সংরক্ষণকেন্দ্র। বনদফতর সূত্রে জানা গিয়ছে, বর্ষায় মাছ ধরতে মৎস্যজীবীরা নৌকা নিয়ে নদীর মাঝখানে জাল ফেলছেন। সেই জালে যাতে শুশুক আটকে না পড়ে, তার জন্য প্রতি দিন মাইক হাতে নদীপাড়ে প্রচার চালাচ্ছেন বনদফতরের কর্মীরা। তাঁরা মৎস্যজীবীদের সতর্ক করছেন, যাতে জালে শুশুক ধরা পড়লেও তাকে নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয়।

২০১০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার গাঙ্গেয় শুশুককে জাতীয় জলজ প্রাণীর স্বীকৃতি দেয়। নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তবে সচেতনতার অভাবে আগে কাটোয়ায় একাধিক গাঙ্গেয় শুশুক, এমনকি শিশু শুশুকেরও মৃত্যু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের জালে আটকে পড়া ডলফিনকে জালের ক্ষতির আশঙ্কায় হত্যা করার অভিযোগও উঠেছে। আবার নদীতে বিষ প্রয়োগ করে চিংড়ি ধরার প্রবণতাকেও শুশুক মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে মনে করছে বনদফতর।

কাটোয়া বনদফতরের বিট অফিসার হিমাংশু মণ্ডল বলেন, “এখন কাটোয়ার ভাগীরথীর মোহনায় প্রচুর গাঙ্গেয় শুশুকের দেখা মিলছে। বিশেষ করে শিশু শুশুকের খেলা দেখতে অনেকে আসছেন। তাই আমরা সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছি। শুশুক রক্ষায় সব সময় নজরদারি চালাচ্ছি।” গবেষণাও চালাচ্ছে বনদফতর। গাঙ্গেয় শুশুককে কেন্দ্র করে কাটোয়ায় সার্কিট ট্যুরিজম গড়ে তোলার ভাবনা নিয়েও কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও বনদফতর। এই উদ্যোগের সমর্থন করেছেন পরিবেশপ্রেমীরাও।

তবে এখনও গাঙ্গেয় শুশুককে বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীই বলতে হয়৷ আগে ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা কাটোয়ায় এসে মৎস্যজীবীদের শুশুক সংরক্ষণের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। দেরাদুনের বিজ্ঞানী মহম্মদ শাহনেওয়াজ খান বলেন, “জলজ জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে হবে এবং গাঙ্গেয় শুশুকের উপযোগী বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ভাগীরথীর কয়েকটি অংশে যে সংখ্যায় শুশুক দেখা যাচ্ছে, তা পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Katwa

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy