E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কটন মিলের জমিতে নতুন শিল্প তৈরির আর্জি

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ১৯৫২ সালে দামোদরের তীরে শিল্পপতি সূর্য বসুর হাত ধরে প্রায় ৩৫০ একর জমিতে গড়ে উঠেছিল কারখানা। সেই সুবাদে এলাকাটির নাম হয় ‘সূর্যনগর’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৪

ঢাকেশ্বরী কটন মিলের বিশাল জমিতে নতুন কারখানা গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। সরকার পরিবর্তনের পরে আসানসোলের পরিত্যক্ত এই জমিতে ভাল কিছু হওয়ার আশা দানা বেঁধেছে কুলটি ও আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার অন্তত ১৮টি গ্রামের বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ১৯৫২ সালে দামোদরের তীরে শিল্পপতি সূর্য বসুর হাত ধরে প্রায় ৩৫০ একর জমিতে গড়ে উঠেছিল এই কারখানা। সেই সুবাদে এলাকাটির নাম হয় ‘সূর্যনগর’। এক সময় এখানে বিশ্বখ্যাত ঢাকাই মসলিন তৈরি হত। ১৯৬৩ সালে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে কারখানাটিতে তালা ঝোলে। পরবর্তী সময়ে তদারকির অভাবে ঐতিহ্যবাহী মিলটি ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। স্থানীয় মৃদুল সরকার জানান, ক্রমশ কারখানাটি কোনও কারণে বন্ধ হয়ে যায়। কারখানার ভিতরে সুন্দর পাঁচিল দেওয়া ছিল। সেই পাঁচিল ভেঙে অসামাজিক কাজের পাশাপাশি ইট, রড, জানলা, দরজা— সব বেহাত হয়েছে। ফলে, জায়গাটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মৃদুলের কথায়, ‘‘নতুন সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমাদের আবেদন, নতুন শিল্পনীতি অনুসারে এখানে শিল্প এলে অনেকের উপকার হবে। আমাদের এখানে ১৮টি গ্রাম রয়েছে, সেখানে প্রচুর বেকার যুবক। নতুন শিল্প হলে এলাকায় কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন হবে।”

এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং থমকে যাওয়া অর্থনীতিকে সচল করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং স্থানীয় বিধায়ক অজয় পোদ্দারের যৌথ হস্তক্ষেপের আর্জি রাখছেন বাসিন্দারা। তবে তাঁদের দাবি, “শিল্পের জমিতেই যেন নতুন শিল্পই গড়ে ওঠে।” পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “শিল্প তো আসবেই। এমএসএমই যখন নিয়েছে, তখন তো শিল্পের জন্যই নেওয়া হয়েছে। সারা বাংলা জুড়ে যেখানে যেখানে জায়গা আছে, যেখানে চাষের জমি নয়, সেখানে আমরাশিল্প করব।’’

একই সঙ্গে মন্ত্রী জানান, দেশ, বিদেশ, রাজ্যের মধ্যে থেকে প্রচুর সংস্থা আসছে। তাঁরা চান শিল্প আসুক। কিন্ত, কোনও রকম অশান্তি, তোলাবাজি, ভয় দেখানো কিংবা সিন্ডিকেট চালানো হলে কোনও দলের কারও রেহাই নেই বলেও স্পষ্ট করে দেন মন্ত্রী। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা’ বা ভব্য স্কিমের অধীনে এই শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবনের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অব্যবহৃত শিল্পজমিতে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন। তাতেই আপাতত আশা দেখছেন স্থানীয়েরা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
industry Cotton

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy