প্রধান বিরোধী দল হলেও তৃণমূল কংগ্রেসকে রাস্তায় নেমে কর্মসূচি নিতে দেখা যাচ্ছে না। দল এখন নানা শিবিরে বিভাজিত। গত বিধানসভা ভোটে তারা জেলায় দু’টি আসনে (বর্ধমান উত্তর ও খণ্ডঘোষ) জিতলেও, ময়দানের রাজনীতিতে তৃণমূলকে আর দেখা যাচ্ছে না, দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। নানা অভিযোগে তৃণমূলের বহু নেতা এখন জেলবন্দি। বাকিদের অনেকেই হয় শিবির বদলেছেন, না হয় নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী পরিসরের দখল নিতে বাম ও কংগ্রেস কর্মসূচি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
বাম কর্মীরা কখনও ব্লক কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, কখনও স্বারকলিপি দিচ্ছেন, হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং করছেন। সিপিএমের দাবি, বিজেপির ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই নানাকারণে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুকুল শিকদার বলেন, ‘‘বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল সমস্ত মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়া হবে। কিন্তু বিশাল সংখ্যক মহিলা এখনও ভাতা পাননি। যাঁরা তৃণমূল জমানায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পেয়েছিলেন, তাঁদের অনেককেই অন্নপূর্ণা যোজনার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে কাজ না পাওয়া, সার, ভোজ্য তেল, পেট্রল, ডিজ়েলের দামবৃদ্ধি, ফসলের দাম না পাওয়ার মতো নানা কারণে মানুষ বিরক্ত। তাঁদেরকে নিয়ে আন্দোলন করেছি। সময় যত গড়াচ্ছে, জনসমর্থন ততই বাড়ছে।’’ আদালতে মামলা করে পূর্বস্থলী, সমুদ্রগড়ের মতো বিভিন্ন স্টেশন চত্বরে রেলের উচ্ছেদ অভিযান আপাতত ঠেকিয়ে দিয়েছে বামেরা। তেমনই সমুদ্রগড় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরে সিপিএমের আন্দোলনের জেরে তা ফেরানো গিয়েছে। পূর্বস্থলীর প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষকে নিয়ে নানা আন্দোলনের পাশাপাশি, গণ সংগঠনগুলির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো, বুথ স্তরে শক্তি বৃদ্ধির কাজও সমান তালে চলছে। বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। ছোট ছোট সভা করা হচ্ছে। দলে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়ের সংখ্যা বাড়ছে।’’
শক্তিবৃদ্ধির চেষ্টা করছে কংগ্রেসও। মন্তেশ্বরে সভা করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। ২১ জুলাই কলকাতার শহিদ মিনারে কংগ্রেসের সভায় এ বার জেলা থেকে বহু মানুষ গিয়েছিলেন, কংগ্রেসের। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘‘খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে ও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছি। অনেক এলাকাতেই তৃণমূল এবং সিপিএম ছেড়ে আমাদের দলে লোকজন আসছেন।’’ কালীঘাট-পন্থী তৃণমূলের নেতা দেবু টুডুর দাবি, ‘‘বেশির ভাগ নেতারা এখনও এলাকা ছাড়া। শীঘ্রই দল পথে নামবে।’’ বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য রাজীব ভৌমিকের দাবি, ‘‘সিপিএমকে মানুষ বিশ্বাস করে না। তৃণমূলকে দূরবীন দিয়েও দেখা যাচ্ছে না। কংগ্রেসঅতি দুর্বল। মানুষের আস্থা বিজেপির প্রতি বাড়ছে।’’