দেবী সর্বমঙ্গলার বিজয়া সেরেই বর্ধমানের শুরু হয়েছে ধনেশ্বরী মহালক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি। রাজ আমল থেকে চলে আসছে এই পুজো। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রবেশ পথের ডান দিকে রয়েছে ধনেশ্বরী মহালক্ষ্মীর মন্দির। এখানে আড়াই ফুট উঁচু অষ্টধাতুর চতুর্ভুজা দেবীমূর্তিটি পদ্মের উপরে বসে। দেবীর কোনও বাহন নেই। মহাশক্তির ধারক ও বাহকরূপে পূজিত হন তিনি। প্রাচীন রীতি মেনে পুজোয় আনাজ ও ফল বলি দেওয়া হয়।
সারা বছর দেবীর নিত্য পুজো হলেও বছরে তিন বার জাঁকজমক করে আরাধনা করা হয়ে থাকে ধনেশ্বরী মহালক্ষ্মীর। কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীরূপে, কালীপুজোর অমাবস্যায় এবং দুর্গাপুজোর সময়ে দুর্গাপুজোর নিয়ম মেনে দেবীর পুজো হয়। বছরে তিন বার তিন রূপে দেবীর আরাধনা অন্য কোথাও হয় না বলে দাবি মন্দির কর্তৃপক্ষের।
মন্দির ট্রাস্ট কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮৮৫ সালে বর্ধমানের মহারাজ চন্দ্রবাহাদুরের কন্যা রাজকুমারী ধনদেয়ী স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। আগে রাজকুমারীর শ্বশুরকূল মন্দির পরিচালনা ও পুজোর দায়িত্বে ছিল। বর্তমানে সেই দায়িত্বে রয়েছে ট্রাস্ট বোর্ড।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে ইতিমধ্যেই মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতি বছর এই পুজো দেখতে শহরের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও বহু ভক্তের সমাগম হয়। শহরে বিজয়া পর্ব শেষ হতেই এখন ধনেশ্বরী মহালক্ষ্মীর আরাধনাকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।