বহির্বিভাগে টিকিট কাটার সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হচ্ছে রোগীর ‘আভা আইডি’ (এবিএইচএ)। সেখানে ধাপে ধাপে সংরক্ষিত হবে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজ়িটাল স্বাস্থ্য মিশনের অংশ হিসেবে গত ২৭ জুলাই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হয়েছে এই ব্যবস্থা। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরে, প্রথম কয়েক দিন টিকিট কাউন্টারে বাড়তি ভিড়ের পাশাপাশি রোগীদের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তিও চোখে পড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আউটডোরে নাম নথিভুক্ত করার সময়ে (টিকিট কাটা) আধার কার্ডের নম্বর লাগছে। এর সাহায্যেই তৈরি হচ্ছে রোগীর ‘আভা আইডি’। এর ফলে ভবিষ্যতে রোগী কোন হাসপাতালে, কবে এবং কী চিকিৎসা করিয়েছেন, তার ডিজ়িটাল নথি সংরক্ষিত থাকবে। পরবর্তী পর্যায়ে এমআরআই, এক্স-রে এবং অন্য পরীক্ষার রিপোর্টও ওই ‘আইডি’র সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীর মোবাইলে সেই রিপোর্ট পৌঁছে যাবে। যদিও সেই পরিষেবা চালু হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। যে সমস্ত রোগীর ‘আভা আইডি’ রয়েছে, তাদের টিকিট কাটার সময়ে সেটি দিতে হবে। সেই নম্বর দিয়েই তৈরি হচ্ছে বহির্বিভাগের টিকিট। নতুন ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, "রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ধাপে ধাপে একটি ডিজ়িটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত হবে। এতে ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস জানতে সুবিধা হবে। ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন স্বাস্থ্যনথির ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে এই ব্যবস্থা চালু হল।" কাউন্টারে ভিড় নিয়ে সুপারের বক্তব্য, "নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় প্রথম দিকে কিছুটা সময় লাগছে। অনেকেই এখনও পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত নন। আসল আধার কার্ড না থাকলেও ফটোকপি বা মোবাইলে থাকা ডিজিটাল কপি দেখিয়েই আভা আইডি তৈরি করা যাচ্ছে। ওটিপি যাচাইয়ের পরে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। কাউন্টারে কিউ আর কোডেরও ব্যবস্থা থাকছে, যাতে দ্রুত টিকিট কাটা সম্ভব হয়।’’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রোগীদের সুবিধার জন্য কিউআর কোডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোবাইল ফোন থেকেই আভা আইডি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। হাসপাতালের আশা, কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। তখন ভিড় ও হয়রানি অনেকটাই কমে যাবে।