E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রক্ত পৃথকীকরণ ইউনিটে আসেনি যন্ত্রপাতিই, দাবি

চিকিৎসক ও বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তে লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা, অনুচক্রিকা, রক্ত রস-সহ নানা উপাদান থাকে।

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৭
রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের ভবন নির্মাণ চলছে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে।

রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের ভবন নির্মাণ চলছে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে। নিজস্ব চিত্র ।

মহকুমা হাসপাতালে রক্তের উপাদান পৃথকীকরণ ইউনিট চালুর দাবি দীর্ঘ দিনের। জানুয়ারিতে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী তথা দুর্গাপুর পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক প্রদীপ মজুমদার দাবি করেছিলেন, প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এসে গিয়েছে। পূর্ত দফতর পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করলেই দ্রুত ইউনিট চালু হবে। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যন্ত্রপাতি এখনও আসেনি। পূর্ত দফতর অবশ্য ইউনিটের জন্য ভবন নির্মাণের কাজ করছে।

চিকিৎসক ও বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তে লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা, অনুচক্রিকা, রক্ত রস-সহ নানা উপাদান থাকে। সাধারণত রোগীদের প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট কোনও একটি উপাদানের। রক্তাল্পতা ও থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগে লোহিত কণিকা, হিমোফিলিয়া এবং লিভার-কিডনির বিভিন্ন সমস্যায় রক্ত রস প্রয়োজন হয়। ডেঙ্গি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে অনুচক্রিকার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়া হলে অনেক সময় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে। রক্ত পৃথকীকরণ ব্যবস্থা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট উপাদান রোগীকে দেওয়া সম্ভব হবে।

এই ব্যবস্থা না থাকলে রোগীকে সম্পূর্ণ রক্ত দিতে হয়, রক্তের অপচয়ও হয়। রক্তের উপাদান পৃথকীকরণ করা গেলে এক ইউনিট রক্ত গড়ে তিন জন রোগীর কাজে লাগানো সম্ভব। ফলে রক্তের সঙ্কটও কিছুটা মেটানো যায়। জেলায় বর্তমানে আসানসোল জেলা হাসপাতালে এই ইউনিট আছে। দুর্গাপুর থেকে রক্ত সেখানে পাঠিয়ে উপাদান পৃথকীকরণ করিয়ে আনতে হয়। তবে এতে সমস্যা আছে। অনুচক্রিকা অত্যন্ত ভঙ্গুর হওয়ায় তা পরিবহণ করাও সমস্যার। আবার দুর্গাপুরে পৃথকীকরণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনের সময়ে নির্দিষ্ট রক্তের উপাদান পেতে সমস্যা হয়।

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক কবি ঘোষ জানান, ২০১৭ সালে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্লাড সেন্টারে এই ইউনিট চালুর জন্য লিখিত দাবি জানানো হয়েছিল। একাধিক বার কলকাতার স্বাস্থ্য ভবনেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারিতে তৎকালীন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের ঘোষণার পরে তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “কিন্তু এখনও দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে রক্তের পৃথকীকরণ ব্যবস্থা চালু হয়নি।”
অবিলম্বে ইউনিট চালুর আর্জি জানিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন ডিএসপি টাউনশিপের প্রবীণ বাসিন্দা তথা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী রণজিৎ গুহও।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্র এখনও আসেনি ঠিকই তবে ইউনিট চালুর আগে ভবন নির্মাণ জরুরি। পূর্ত দফতর সেই কাজ করছে এবং ভবন নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে। এর পরে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Durgapur

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy