সারা বছর তাঁর পুজো হয় মন্দিরে। ব্যতিক্রম শুধু রথের দিন। সেই দিন মন্দির থেকে ভক্তদের কোলে চেপে আসেন পালকিতে। আগে চলে ঢাক-সহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা। কালনা শহরের লালজি দেবতার রথে এমন রেওয়াজ চলে আসছে বহু বছর ধরে। ২৫০ বছরেরও বেশি পুরনো এই রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে শহরের রাস্তায় দড়ি ধরে রথ টানতে দেখা যায় কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার, মহকুমাশাসক অহিনসা জৈন-সহ বেশ কিছু সরকারি আধিকারিককে। মাস্ক, দস্তানা হাতে তাঁরা প্রসাদ বিলি করেন। কালনা শহরের রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে লালজি মন্দির। অজস্র টেরাকোটার কাজে ভরা মন্দিরটি স্থান পেয়েছে ডাকটিকিটে।
শোনা যায়, বর্ধমান রাজ পরিবারের রানি ব্রজকিশোরী দেবী তাঁর রাধার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন শ্যামরাইয়ের। জামাই লালজির জন্য তিনি ২৫ চূড়ার মন্দির নির্মাণ করেন। এক সময় বর্ধমান রাজ পরিবারের বেশ কয়েকটি রথ ছিল। বড় বড় রথ টানার জন্য আনা হত হাতি। ধীরে ধীরে সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়। বেশ কিছু বছর রথ ছাড়াই হত লালজির মহারাজের রথযাত্রা। ১৮ বছর আগে এলাকার মানুষের চেষ্টায় তৈরি হয় একটি লোহার রথ। এ বার রথ কমিটি সরকারের থেকে পাঁচলক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান পায়। রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের কাছে তৈরি করা হয় বড় মঞ্চ। সেখানে হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা নাগাদ পুজো এবং ভোগপর্ব মেটার পরে ভক্তদের কোলে চেপে মন্দির থেকে পালকিতে ওঠেন লালজি। রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের পিছন দিকে রয়েছে একটি লোহার দরজা। কেন্দ্রীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ সেটি বন্ধ রেখেছে। এ বার রথের আগে প্রাচীন প্রথা মেনে ওই দরজা দিয়ে লালজি পালকিতে চড়ে যাতে বাইরে আসতে পারেন, স্থানীয় মানুষ দরজা খোলার দাবি তোলেন। পালকি বার করার পরে ফের দরজা সিল করে দেওয়ার অনুমতি দেয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ।