বন্যপ্রাণ ও দেশি পাখির শিকার, পাচার এবং কেনাবেচা বন্ধ করতে শিল্পাঞ্চলের আসানসোল বাজারে বন দফতরের তরফে বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান চালানো হয়। ‘বন্যপ্রাণী পাচার সচেতনতা কর্মসূচি’ (ওয়াইল্ডলাইফ ট্র্যাফিকিং অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম)-এর অংশ হিসাবে দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা বাজারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষ, পাখি ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পাখির দোকান, দশকর্মা ও পুজোর সামগ্রীর দোকানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতন করেন। পাখি ব্যবসায়ীদের জানানো হয়, শুধু টিয়া নয়, ময়না, চন্দনা, ঘুঘু, মুনিয়া, পেঁচা, কাঠঠোকরা-সহ বিভিন্ন দেশীয় এবং পরিযায়ী পাখি ধরা, খাঁচাবন্দি করে রাখা বা বিক্রি করা আইনত অপরাধ।
বন দফতরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে জানানো হয়েছে, আসানসোল বাজার বা অন্য কোথাও টিয়া পাখি কিংবা অন্য কোনও দেশীয় বন্য পাখি বিক্রি করতে দেখা গেলে, অথবা কোনও বন্যপ্রাণী বা তার দেহাংশ কিংবা নিষিদ্ধ সামগ্রী কেনাবেচার খবর পাওয়া গেলে অবিলম্বে স্থানীয় থানা অথবা নিকটবর্তী বন দফতর ও বিট অফিসে খবর দিতে হবে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও বিভিন্ন সময় অভিযানে সাপের বিষ, হরিণের শিং, হাতির দাঁত-সহ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ফলে বাজারের বিভিন্ন দোকানে সচেতনতার পাশাপাশি নজরদারির উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রেঞ্জের (আসানসোল) তমালিকা চন্দা বলেন, “বন্যপ্রাণী পাচার, শিকার এবং অবৈধ কেনাবেচার বিরুদ্ধে এই ধরনের সচেতনতামূলক অভিযান আগামিদিনেও চলবে। কোথাও বন্যপাখি, বন্যপ্রাণী বা তাদের দেহাংশের অবৈধ কেনাবেচা চোখে পড়লে দ্রুত স্থানীয় থানা অথবা বন দফতরকে খবর দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।” বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকেও এই উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।