Advertisement
E-Paper

পাপিয়া অধিকারীর ‘সদ্যপ্রাক্তন’ পিএ গ্রেফতার! লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ, কী প্রতিক্রিয়া বিধায়কের?

ধৃতের নাম সায়ন্তন সান্যাল। পুলিশ সূত্রে খবর, পেশায় তিনি ঠিকাদার। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। সোমবার বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২২:১৩
(বাঁ দিকে) পাপিয়া অধিকারী। পুলিশের হাতে ধৃত বিধায়কের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) পাপিয়া অধিকারী। পুলিশের হাতে ধৃত বিধায়কের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক (ডান দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।

টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর সদ্যপ্রাক্তন আপ্তসহায়ক গ্রেফতার!

ধৃতের নাম সায়ন্তন সান্যাল। পুলিশ সূত্রে খবর, পেশায় তিনি ঠিকাদার। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। সোমবার বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। অভিযোগ, ১৯ লক্ষ টাকা নিয়ে জালিয়াতি করেছেন তিনি। অন্য দিকে, বিধায়ক পাপিয়া জানিয়েছেন, সায়ন্তনকে কিছু দিন আগে কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সায়ন্তনের বাড়ি জগদ্দল থানার শ্যামনগরের ব্যানার্জিপাড়া রোডে। সোমবার ভোররাতে স্থানীয় থানার সহযোগিতায় তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। সোমবারই বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়েছিল তাঁকে। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম তাঁকে দু’দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, রায়না থানার সেহারাবাজারের বাসিন্দা বিশ্বরূপ সাহা পেশায় রেলের ঠিকাদার। সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগকারী তিনি। ঠিকাদারি কাজের সূত্রেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় সায়ন্তনের। একই পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় দু’জনের মধ্যে আর্থিক লেনদেন চলত। মাঝেমধ্যেই বিশ্বরূপের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন সায়ন্তন। পরে সেই টাকা ফেরতও দিতেন। পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একটা সময়ে এসে বড় অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন সায়ন্তন।

অভিযোগ, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত কয়েক দফায় বিশ্বরূপের কাছ থেকে মোট ২৫ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা ধার নেন সায়ন্তন। পরে স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিশ্বরূপকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। বাকি ১৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা পরে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও পালিয়ে বেড়়াচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তবে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১৭ মার্চ সায়ন্তন তাঁকে এসএমএস করে জানান, তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে বিশ্বরূপের অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। আবার টাকা ফেরত চেয়েও কোনও লাভ হয়নি। নানা অছিলায় টাকা ফেরত দেওয়া এড়িয়ে যেতে থাকেন সায়ন্তন।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বর্ধমান সিজেএম আদালতের দ্বারস্থ হন বিশ্বরূপ। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তের জন্য বর্ধমান থানার আইসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। তার পরেই এই পদক্ষেপ।

আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত বিষয়টি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সায়ন্তনের গ্রেফতারি নিয়ে পাপিয়ার প্রতিক্রিয়া, ‘‘ওকে পুজোর মধ্যেই আমি কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম। আমাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকে ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। সেই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ওকে (পিএ-এর দায়িত্ব থেকে) সরিয়ে দিই। আজ গ্রেফতার হয়েছে শুনলাম। কিন্তু ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে বেশ কিছু দিন।’’ টালিগঞ্জের বিধায়ক আরও বলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় থেকেও ও সঙ্গে ছিল। কিন্তু আমার পিছনে কে কী করে বেড়ায়, আমার তো সবটা জানা নেই। অনেক অভিযোগ শুনেছি ওর বিরুদ্ধে।’’

Papiya Adhikari BJP MLA

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy