শহর বা গ্রামে নানা ওষুধের দোকানে গেলেই দেখা যায়, বিজ্ঞাপনের বোর্ডে চিকিৎসকদের নামের পাশে লেখা বড় বড় ডিগ্রি। ওষুধের দোকানের সঙ্গে ওই সব চিকিৎসকের পরিচয় করিয়ে দেন ‘মেডিক্যাল রিপ্রেজ়েন্টেটিভ’-রা (এমআর)। যাঁদের অনেকেই আবার ‘ভুয়ো’ বলে অনুমান স্বাস্থ্য দফতরের। দফতর সূত্রের দাবি, ভুয়ো চিকিৎসক-চক্র চালানোর পিছনে এই ধরনের এমআর-দের একাংশ জড়িত। যদিও এই দাবি নস্যাৎ করেছে এমআর-দের নানা সংগঠন। তাদের দাবি, এক শ্রেণির ওষুধের ডিস্ট্রিবিউটর বাজার ধরার জন্য কর্মী নিয়োগ করছে। ওই কর্মীরাই ‘এমআর’ সেজে ওষুধের দোকানে যাচ্ছেন। হাতুড়েদের বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসক বলে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। রাস্তা জুড়ে বড় বড় বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। আর তাতেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা।
বর্ধমান রোডে কাটোয়ার এক ওষুধের দোকানের মালিক বলেন, “আমার এখানে দু’জনকে চিকিৎসক দাবি করে পরিচয় করান এমআর-রা। আমার দোকানে বসতেও শুরু করেছিলেন তাঁরা। কয়েক বার রেজিস্ট্রেশনের প্রতিলিপি চাওয়া হলে, তাঁরা আর চেম্বারে আসেননি।” মেমারির রসুলপুর, কেতুগ্রাম, ভাতার, জামালপুরেও অনেকে ওষুধের দোকানে বসে চিকিৎসা করছেন বলে দাবি।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন, “ভুয়ো চিকিৎসকদের পিছনে একটি চক্র রয়েছে।” সোমবার দুর্গাপুরে তিনি বলেন, “ভুয়ো চিকিৎসকের তালিকা অনেক লম্বা। আমাদের কাছে থাকা তালিকায় যাঁরা সন্দেহজনক, তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দোষীরা সতর্ক হয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।”
এমআর সংগঠনগুলির দাবি, এই চক্রে ওষুধের দোকানগুলিরও যোগ রয়েছে। কয়েক দিন আগে বর্ধমানের এক ‘এমবিবিএস’ পাশ করা চিকিৎসককে ‘এমডি’ বলে দাবি করা হয়েছিল। কেউ হাতুড়ে জানার পরেও ‘বড় ডিগ্রিধারী’ চিকিৎসক দাবি করে দোকানে বসাচ্ছেন অনেক ওযুধের দোকানদার। ওষুধের দোকানদারদের সংগঠন ‘বিসিডিএ’-র জেলা সভাপতি শমীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (তমাল) বলেন, “আমরা প্রত্যেক সদস্যকে সতর্ক করেছি। নিজেদের দোকানে তো বটেই, আশপাশে কোনও চিকিৎসক বসলে তাঁর রেজিস্ট্রেশন, ডিগ্রি দেখে নিতে বলা হয়েছে।” বিসিডিএ-র দাবি, কিছু এমআর ওষুধের দোকানদারদের ভুল বুঝিয়ে হাতুড়েদের বসায়। লোভের ফাঁদে পা দেন ওষুধের দোকানদারেরা।
এমআর-দের একটি সংগঠনের জেলা সম্পাদক সোমনাথ বসু বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমরা সমর্থন করি না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” সিটুর দাবি, এক শ্রেণির ডিস্ট্রিবিউটর ভুয়ো এমআর পাঠিয়ে চিকিৎসকদের লোভ দেখিয়ে ওষুধ বিক্রির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। সিটু অনুমোদিত এমআর সংগঠনের জেলা সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু বলেন, “ভুয়ো ডাক্তারের বিরুদ্ধে আমাদের সংগঠনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
জেলার সিএমওএইচ জয়রাম হেমব্রম বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেলেই জেলা স্বাস্থ্য দফতর তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে।”