সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা চিকিৎসক অভীক দে-কে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে এনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল স্বাস্থ্য ভবনের তদন্তকারী একটি দল। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ অভীককে পুলিশি ঘেরাটোপে হাসপাতাল থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস জানান, পার্থপ্রতিম প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার অভীককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কমিটিতে রয়েছেন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কৌশিক মিত্র এবং বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোমনাথ দাস।
সূত্রের খবর, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে অভীকের কর্মরত থাকা, কোভিড-পর্বে তাঁর পরিষেবা এবং সেই সূত্রে পাওয়া ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ— মূলত এই সংক্রান্ত নথি ও অভিযোগ নিয়েই তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা তাঁর কর্মজীবন, কোভিড পরিষেবা এবং সার্ভিস কোটায় ভর্তির যোগ্যতা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
অভীককে সোমবার স্বাস্থ্য ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি সেখানে হাজির হননি। এর পর পুলিশ তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আসতে বলে। মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছোনোর পর তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয়বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছিল।
অভীকের সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে একটি তদন্ত কমিটিও ওই ভর্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। যদিও সেই সময় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো ফাইল ফের খোলা হয়। চলতি বছরের মে মাসে স্বাস্থ্য ভবন অভীকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি তিনি কী ভাবে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়ো ডায়াগোনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও অভীক পরে এসএসকেএম হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগে প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষার্থী হন। আরজি কর কাণ্ডের পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে নিলম্বিত করা হয়। এখনও তিনি নিলম্বিত রয়েছেন।
অভীককে আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব ঘিরেও ছিল নজরদারি। সন্ধ্যায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে বার করার সময় পুলিশ নিজেদের ঘেরাটোপে রেখে গাড়িতে করে নিয়ে যায়।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএসের শেষ বর্ষের ছাত্র বিভাংশু দে বলেন, “কোভিড কোটায় তাঁকে যে সার্ভিস দেওয়া হয়েছিল, সেটা নিয়েই আমাদের প্রশ্ন ছিল। রাজ্য সরকার নতুন করে তদন্ত শুরু করায় আমরা খুশি।”
সার্ভিস কোটায় ভর্তির যোগ্যতা, কোভিড-পর্বে অভীকের পরিষেবার নথি এবং সেই পরিষেবার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া— এই তিনটি বিষয়ই তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।