দুর্গাপুজোয় ‘থিম’-এর দাপট উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও সামাজিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে, কোথাও কোনও স্থাপত্যের আদলে মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। এই আধুনিকতা অবশ্যই সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তবে এ বার আসানসোলের মহিশীলা পালপাড়ার কুমোরটুলিতে দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রতিমার রূপে সাবেকিয়ানা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন মৃৎশিল্পীরা। তবে মাটি-সহ অন্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত শিল্পীরা।
মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, তুলনামূলক ভাবে সাবেকরীতির ও সনাতনী রূপের দুর্গাপ্রতিমার চাহিদাই এ বার বেশি। আধুনিক নকশা কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অভিনব প্রতিমার পরিবর্তে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন সাবেক ডাকের সাজ ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গার রূপ।
মৃৎশিল্পী রঞ্জিত পাল, শ্রীকৃষ্ণ রুদ্র পালরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বার সাধারণ সাবেকরীতির দুর্গা প্রতিমার বায়না বেশি এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর বা আধুনিক নকশার প্রতিমার চাহিদা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। শ্রীকৃষ্ণ রুদ্র পাল বলেন, “ডাকের সাজের প্রতিমার চাহিদা বেড়েছে। থিম নির্ভর প্রতিমার চাহিদা একেবারে এ বছর নেই। মহিশীলা কুমোরটুলিতে প্রায় ১২-১৪টি মৃৎশিল্পী পরিবার রয়েছে। এখান থেকে প্রতিমা ঝাড়খণ্ডেও যায়।”
মৃৎশিল্পী রঞ্জিত পাল বলেন, “কেউ বেশি বাজেটের দিকে যাচ্ছেন না। থিমের অর্ডার এ বছর নেই। মূর্তি তৈরির সরঞ্জামের দাম প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। মাটি থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বেড়েছে। গঙ্গার মাটি মিলছে না। মাটির দাম যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। যে ভাবে সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে আমাদের পক্ষে এই কাজ করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে আমাদের অন্য চিন্তাভাবনা করতে হবে।” মৃৎশিল্পীরা জানান, ২৮-৩০ হাজার টাকার মাটির দাম এখন ৬২০০০ টাকা। সুতলি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় পেতাম। সেটা এখন আড়াইশো টাকা হয়েছে। আর একটি বাঁশ আগে মিলত ১৮০ টাকায়। সেটা প্রায় বেড়েছে ৫০ টাকা। ফলে প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া, রয়েছে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি।
তবুও দুর্গা প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলতে কাজ করে চলেছেন মহিশীলার কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা।