E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শহরের সাতটি বেআইনি নির্মাণকাজ বন্ধ পুরসভার

১৯৯৫ সাল থেকে কাটোয়া পুরসভায় একটানা ৩০ বছর কংগ্রেস ও পরে তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল। শহরের ২০টি ওর্য়াডেই নির্মাণ কাজের উপরে কড়া নজর থাকত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০০:২১
এই সব নির্মাণ বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে।

এই সব নির্মাণ বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। — নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যে পালা বদলের মাস খানেকের মধ্যেই পর পর পদত্যাগ করতে শুরু করেন পুরপ্রধান, পুর প্রতিনিধিরা। ভেঙে যায় কাটোয়া পুরসভা। নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকার সুযোগ নিয়ে বাড়তে থাকে বেপরোয়া অবৈধ নির্মাণ। ওই নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে এ বার অভিযানে নামল কাটোয়া পুরসভা। মহকুমাশাসক তথা কাটোয়ার পুরসভার প্রশাসক রীনা ঘোষের নির্দেশে রবিবার সকালে আচমকা অভিযান শুরু হয়। কাটোয়া পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক চঞ্চলকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা অভিযান চালিয়ে সাতটি বেআইনি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। ধরানো হয় নোটিস। তাঁদের বাড়ি তৈরির ছাড়পত্র-সহ যাবতীয় নথি নিয়ে শীঘ্রই পুরসভায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ছুটির দিনে সকালেই কার্যনির্বাহী আধিকারিক পুরকর্মীদের নিয়ে ওই সমস্ত বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি দেখতে চান। জানা গিয়েছে, কেউই তা দেখাতে পারেননি। কাজ বন্ধ করতে বলতেই কয়েক জন কার্যনির্বাহী আধিকারিকের সঙ্গে বচসা জোড়েন। পুরসভা কড়া হয়ে সাতটি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পুরসভার দাবি, পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেআইনি কাজের প্রবণতা বেড়েছে। আগেও অবৈধ নির্মাণ নিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেননি। তার পরেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শহর জুড়ে বেআইনি নির্মাণ কোথায় কোথায় হচ্ছে, সেই তালিকা তৈরি করে অভিযান চালানো হয়। পুরসভার দাবি, জায়গা না ছেড়েই বাড়ি করা, পাঁচিলের উপরে ছাদ দেওয়া ঘরে বড় জানালা রাখা, প্রতিবেশীদের আপত্তি না মেনে গায়ের জোর দেখানোর মতো অভিযোগ এসেছে।

১৯৯৫ সাল থেকে কাটোয়া পুরসভায় একটানা ৩০ বছর কংগ্রেস ও পরে তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল। শহরের ২০টি ওর্য়াডেই নির্মাণ কাজের উপরে কড়া নজর থাকত। অভিযোগ এলে পুরসভা উন্নয়ন খাতে টাকা আদায় করত। ভাঙাও হয়েছে বহু নির্মাণ। এ নিয়ে তৎকালীন পুরবোর্ডের উপরে মানুষের ক্ষোভও ছিল। এ বার বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বহু মানুষ ক্ষমতার টানে তাতে ভিড়েছেন। শাসক দলের ছত্রছায়ায় থেকে অসমাপ্ত বেআইনি নির্মাণ কাজ করে নেওয়ারও উদ্দেশ্য রয়েছে অনেকের। শহরের বেশ কয়েক জন বাসিন্দা বলেন, “তৃণমূলের আমলে অনেক নির্মাণ কাজ দিনের পর দিন অসমাপ্ত পড়ে থাকত। পরে মোটা টাকা দিয়ে কাজ করানো হত। এখন পুরপ্রশাসকের কাছে সব খবর পৌঁছচ্ছে না। ওয়ার্ডের সুপারভাইজ়ারেরাও গা ঢিলে দিয়েছেন। এই সুযোগেই বেড়েছে বেআইনি নির্মাণ।’’

কাটোয়া পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক কর্মী বলেন, “আধ কাঠা জায়গার উপরেও পাকা বাড়ি করা হচ্ছে। কেউ আবার কোনও জায়গা না ছেড়ে প্রতিবেশীর আপত্তি উপেক্ষা করে জানালা বসাচ্ছেন। এ সব মেনে নেওয়া হবে না।’’

পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক চঞ্চলকুমার মণ্ডল বলেন, “সাতটি অবৈধ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে পুরসভায় দেখা করতে বলা হয়েছে।’’ নির্মাণ বেআইনি প্রমাণ হলেই ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Illegal Constructions Katwa

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy