পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প নাম বদলে হয়েছে ‘সারথি’। বদলেছে রং-ও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইছেন এ রাজ্যেই হোক এই সাইকেল তৈরির কারখানা। এই কথাতেই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন আসানসোলের কন্যাপুরের সেন-র্যালে এলাকার বাসিন্দারা
১৯৫২ সালে সেন-র্যালে এলাকায় গড়ে উঠেছিল ‘সাইকেল কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া’। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানচন্দ্র রায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই কারখানার উন্নতি হয়। প্রায় সাড়ে চার হাজার পাঁচশো কর্মী কাজ করতেন এখানে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় এবং উৎপাদন খরচ ক্রমে বাড়তে থাকায় কারখানা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। বাম আমলে শ্রমিক অসন্তোষ ও ধর্মঘটের জেরে কারখানা ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে। ২০০৩ সালে এটি পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা বন্ধ হওয়ার পরে যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে ইট পর্যন্ত চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ। বর্তমানে আগাছা ও জঙ্গলে ঢাকা পড়ে আছে প্রায় সাড়ে ছ’শো একর জমি। এলাকাবাসী থেকে প্রাক্তন কর্মীরা জানান, এখানে যখন কারখানাটি চালু ছিল, সেই সময় এলাকা জমজমাট থাকত। বাজার বসত। যদি আবার সাইকেল কারখানাটি খোলা হয়, তা হলে পুরনো সেই ছবি ফিরে আসবে। তাই তাঁরা চান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সাইকেল কারখানা এই জমিতেই গড়ে উঠুক।
মঙ্গলবার হাওড়ার একটি স্কুলে সাইকেন বিলির অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগে পঞ্জাব থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ এনে এখানে জোড়া হত। এই কাজ বন্ধ করেছি। এই সাইকেলের গুণগত মান যেমন বজায় রাখা হচ্ছে, তেমনই চাইছি এই ধরনের সাইকেল তৈরির কারখানা যাঁরা করবেন, রাজ্য সরকার তাঁদের জমি দেবে। সাইকেল কেনার চুক্তিও করব।”
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রাক্তন কর্মী দিলীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “যদি এখানে জমি শিল্পের জন্য বরাদ্দ হয়, তা হলে আগে পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। এটা সফল হলে এলাকার অর্থনীতি উন্নত হবে। কর্মসংস্থান হবে এবং আগের অবস্থায় ফিরে যাবে এলাকা।” তিনি জানান, এক সময় এখানে প্রতিদিন ১,৬৫০টি সাইকেল উৎপাদন হত। প্রায় ৪,৫০০ কর্মচারী ছিলেন। আর এক প্রাক্তন কর্মী সুজয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “খুব ভাল হবে এখানে এই সাইকেল কারখানা খুললে। সেন-র্যালের সাইকেল ফ্যাক্টরি এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম এবং পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এখানে সাইকেল কারখানা হলে ভিন্ রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।”
এ প্রসঙ্গে মমতা-তৃণমূলের জেলার নেতা ভি শিবদাসন বলেন, “কারখানা চালু করলে গেলে সব নতুন করে শুরু করতে হবে। হলে সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাব।” সিপিএমের রাজ্য কমিটির নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, “কোনও ধর্মঘটের প্রশ্নই নেই। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুসারে সেটা রুগ্ণ করা হয়েছিল।” কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি বলেন, “সাইকেল কারখানা বন্ধ হয়েছিল বিজেপির সময়ে। এই শিল্পাঞ্চলকে বাঁচাতে হলে পুরনো কারখানাগুলিকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে। বর্তমান সরকার যদি উদ্যোগী হয়, সাধুবাদ জানাব।” আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। আগে এক বার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিদর্শন হয়েছে। বুধবার ইন্ডাস্ট্রি আর কমার্সের কেবিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব রেখেছি, সেন-র্যালের কারখানার জমিতে পুনরায় এটা চালু করতে।”