E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শুকিয়েছে পুকুর, খনির কাজ বন্ধ

বাসিন্দাদের ক্ষোভ, বিস্ফোরণে বার বার তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কখনও বাড়িতে ফাটল ধরছে, কখনও ধোঁয়া ও গ্যাসের সমস্যায় নাকাল হতে হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ০৬:৫১
শুকিয়ে গিয়েছে এই পুকুরের জল।

শুকিয়ে গিয়েছে এই পুকুরের জল। নিজস্ব চিত্র ।

খোলামুখ খনিতে বিস্ফোরণের জেরে লাগোয়া একটি পুকুরের জল শুকিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কেন্দা পঞ্চায়েতের খ্যাপাডাঙা মাঝিপাড়ায়। প্রতিবাদে রবিবার খনির কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা।

বাসিন্দাদের দাবি, এই পুকুরের জলের উপরে নির্ভরশীল খ্যাপাডাঙা, বাদ্যকরপাড়া ও পূর্ব কেন্দা খাটালপাড়ার প্রায় দু’শো পরিবার। এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর থেকে জল সরবরাহ করা হলেও তা অনিয়মিত ও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ। তাই এই পুকুরের জলই ছিল ভরসা। কিন্তু রবিবার ভোরে তাঁরা দেখেন, পুকুর শুকনো। কয়েক জন ওই পুকুরে মাছ চাষ করছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, খনিতে বিস্ফোরণের জেরে মাটি আলগা হয়ে পুকুরের এক দিকের পাড় ভেঙে যায়। এর জেরে পুকুরের সমস্ত জল এবং মাছ পাশের তিন নম্বর খোলামুখ খনিতে নেমে গিয়েছে।

বাসিন্দাদের ক্ষোভ, বিস্ফোরণে বার বার তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কখনও বাড়িতে ফাটল ধরছে, কখনও ধোঁয়া ও গ্যাসের সমস্যায় নাকাল হতে হয়েছে। এ বার পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় আরও বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে গোটা এলাকা মাটির নীচে তলিয়ে যেতে পারে। মাত্র পাঁচ কিলোমিটার‌ দূরে জামবাদে ধসে এক মহিলা বাড়ি-সহ তলিয়ে গিয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে কেন্দা খোলামুখ খনি এলাকায় ভূপৃষ্ঠ নিরীক্ষণের সময়ে এক মাইনিং সর্দারের মাটির নীচে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তাঁরা। দাবি, নতুন করে পুকুর খনন করে দিতে হবে এবং দ্রুত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

কেন্দা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০১৩ সালে ইসিএল পরিচালিত তৎকালীন পশ্চিম কেন্দা খোলামুখ খনির বিস্ফোরণে একটি জলাশয় শুকিয়ে গিয়েছিল। তার আগে-পরে কেন্দা গ্রাম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক বার ধস নেমেছে। তাঁর কথায়, “আড়াই দশক আগে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা চাই, ইসিএলই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক। এলাকাবাসী খনির বিরোধী নন, তাঁরা শুধু নিরাপদে থাকতে চান।”

তিন নম্বর খনিতে কর্মরত কয়েক জনের দাবি, খোলামুখ খনিটি একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। খনি থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে রয়েছে ওই পুকুর। কয়েক দিন আগে পুকুরের পাড় ঘেঁষে মাটি কাটার কাজ হয়েছিল। এর পরে বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে যায়। শনিবার দুপুরে খনিতে বিস্ফোরণের পরে ভোরে পুকুরের পাড় ভেঙে জল খনিতে নেমে যায়। সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা খনির কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান।

খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা হবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Mining

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy