ছাইবোঝাই ডাম্পার আটকে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়েরা। শুক্রবার কুলটি থানার সাঁকতোড়িয়া হুসেনিয়া মোড়ে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থেকে ডিসেরগড়-নিয়ামতপুর রোড দিয়ে ছাই পরিবহণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে চলা দূষণের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ বলে দাবি তাঁদের। বিক্ষোভ সমর্থন করে পাশে দাঁড়ান স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিজিৎ আচার্য।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রঘুনাথপুর থেকে ছাই বোঝাই ডাম্পার নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। ডাম্পার থেকে রাস্তায় ছাই পড়ছে। বাতাসে সেই ছাইয়ের গুঁড়ো উড়ছে। এতে শ্বাসকষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় শান্তি গড়াই বলেন, ‘‘দোকানে গ্রাহক আসছেন না। এত ছাইয়ের গুঁড়ো-ধুলো উড়ছে যে সাধারণ মানুষের তীব্র সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসন সব জানে কিন্তু কেউ দেখার নেই। এর আগেও প্রতিবাদের পরে বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু, এখন আবার বেশি পরিমাণে চলছে। এ ভাবে ছাই পরিবহণ বন্ধ করা হোক।” ছাই পরিবহণকারী ডাম্পারের চালক পঙ্কজ যাদবও মানছেন, “রঘুনাথপুর থেকে দুবরাজপুর ছাই নিয়ে যাই। ছাই রাস্তায় উড়ে যাতায়াতের সমস্যা হয়।”
খবর পেয়ে কুলটি থানার সাঁকতোড়িয়া ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আসানসোল জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি অভিজিৎ আচার্য বলেন, “এলাকার মানুষ স্বেচ্ছায় প্রতিবাদে নেমেছেন। এর আগে প্রশাসন স্তরে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছি। আমরা জানতে চেয়েছি যে, বন্ধ হওয়ার পরে এটা আবার কে চালু করল। আমরা মন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দারকে জানিয়েছি?’’ ছাই পরিবহণ করলে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব উঠে আসছে। নতুন তৈরি রাস্তাতেও ছাই পড়ে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, লোক দেখানো দু’একটি ছাই পরিবহণকারী ডাম্পারে মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নিয়ামতপুর সাব-ট্র্যাফিক গার্ড পুলিশের তরফে জরিমানা ও সচেতন করা হয়। তার পরেও প্রতিদিন এত পরিমাণে ছাইয়ের গুঁড়ো রাস্তায় পড়ে থাকে যে, আস্তরণ পড়ে যায়। সেই গুঁড়ো উড়ে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের সমস্যা হয়। ফলে শ্বাসকষ্ট, শারীরিক অসুস্থতার বিরাম নেই বলেও অভিযোগ।
যদিও পুলিশ সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত পরিবহণ বন্ধ হয়েছে। অতিরিক্ত পরিবহণ নজরে এলে প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি উচ্চ আধিকারিককেও জানানো হবে।