পকসো মামলা প্রত্যাহার না-করলে দেখে নেওয়ার হুমকি ‘নির্যাতিতা’র পরিবারকে। নাম জড়াল এক বিজেপি নেতার। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ‘ব্যক্তিগত গন্ডগোল’। এই সব মিলিয়ে শোরগোল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানা এলাকার একটি গ্রামে।
বছর দুয়েক আগে দায়ের হওয়া একটি পকসো মামলাকে কেন্দ্র করে ওই গন্ডগোল। অভিযোগ, বিচারাধীন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ‘নির্যাতিতা’ নাবালিকার পরিবারের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, ‘নির্যাতিতা’র বাবাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা-সহ জনা কয়েক যুবকের বিরুদ্ধে।
‘নির্যাতিতা’র বাড়ি আউশগ্রাম থানা এলাকায়। এখন সে নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ, দু’বছর আগে পাশের পাড়ার এক বাসিন্দা তাকে যৌন হেনস্থা করেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। এখন অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত। তবে মামলা চলছে।
‘নির্যাতিতা’র পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি ওই অভিযুক্ত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। ওই এলাকার বিজেপির বুথ সভাপতির তিনি ঘনিষ্ঠ। দিন কয়েক আগে লোকজন নিয়ে বাড়িতে গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে গিয়েছেন। রাজি না-হওয়ায় কয়েক দিন আগে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে ‘নির্যাতিতা’র বাবাকে আটকে মারধর করেন তাঁরা। এর পর বিজেপি নেতা-সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘নির্যাতিতা’র বাবা। কিন্তু তার পরেও তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য ওই সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির আউশগ্রাম-৩ মণ্ডলের সভাপতি পবন মণ্ডল বলেন, ‘‘মারধরের ঘটনাকে পকসো মামলার সঙ্গে জুড়ে দেখা ঠিক নয়।’’ তাঁর এ-ও দাবি, ‘‘নরহরি মান্নার (অভিযুক্ত বিজেপি নেতা) সঙ্গে ‘নির্যাতিতা’র বাবার ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।’’
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।