E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

আতঙ্কের গ্রাসে নেপাল-বিমুখ অনেকে, চাইছেন বুকিং বাতিল

হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের একাধিক জেলা। প্রতিবেশী দেশটির বেশ কয়েকটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। গত ২৬ অগস্ট সকালের ঘটা বিপর্যয়ের পরে বেড়াতে যাওয়া কয়েকশো ভারতীয়ের খোঁজ এখনও মেলেনি।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০২
হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের একাধিক জেলা।

হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের একাধিক জেলা। — ফাইল চিত্র।

পুজোর ছুটিতে বেড়ানোর জন্য নেপাল যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন অনেকে। সেখানে বিপর্যয়ের ছবি দেখে তাঁদের অনেকেই বুকিং বাতিল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। রোজই ভ্রমণ সংস্থাগুলির অফিসে ফোন করছেন তাঁদের অনেকে। তাঁরা পাহাড়ের বদলে এখন সমতলে যেতে চাইছেন বলে জানাচ্ছে ভ্রমণ সংস্থাগুলি।

হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের একাধিক জেলা। প্রতিবেশী দেশটির বেশ কয়েকটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। গত ২৬ অগস্ট সকালের ঘটা বিপর্যয়ের পরে বেড়াতে যাওয়া কয়েকশো ভারতীয়ের খোঁজ এখনও মেলেনি। নিখোঁজদের তালিকায় নাম রয়েছে এ রাজ্যের অনেকেরই। বিপর্যয়ের পরে প্রায় দু’সপ্তাহ কাটতে চললেও নেপালে কর্মরত দেওয়ানদিঘির সিমডালের বাসিন্দা সন্দীপকুমার গড়াইয়ের সন্ধান পাননি পরিজনেরা। সন্দীপের দাদা দীপক নেপালে ও বর্ধমানে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দিয়ে এসেছেন।

জেলার একাধিক ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেউ নেপালের সফরসূচি বাতিল করছেন, কেউ পরে ভাববেন বলে জানাচ্ছেন। উল্টো দিকে, পর্যটন সংস্থার কর্তারা নেপালের একাধিক এলাকার ভিডিয়ো পাঠিয়ে পর্যটকদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, যেখানে তাঁরা বেড়াতে যাবেন, সেখানে কিছু হয়নি। কাটোয়ার এক ভ্রমণ সংস্থার অন্যতম কর্তা সঞ্জয় দাস বলেন, ‘‘কৈলাস, মান সরোবর যাওয়ার রাস্তা বিচ্ছিন্ন। কিন্তু কাঠমান্ডু, পোখরার মতো এলাকায় কোনও সমস্যা নেই। পুজোর সময়ে একটি দল নেপালে বেড়াতে যাবে। উদ্বিগ্ন হয়ে তারা আমায় ফোন করেছে। আমি নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যটকেরা কেমন আছেন, তার ভিডিয়ো ওঁদের পাঠিয়েছি। কোন এলাকায় ক্ষতি হয়েছে, তাও জানিয়েছি।” তবে উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে বর্ধমান শহরের বেশ কয়েকটি পর্যটক সংস্থার আধিকারিকদের গলায়।

বর্ধমানের একটি ভ্রমণ সংস্থার কর্তা অনুজ চৌধুরী বলেন, “১৫ জনের একটি দলের নেপাল যাওয়ার কথা ছিল। তাঁরা ১৫ অক্টোবর বর্ধমান থেকে রওনা দিতেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে অনেকেই যেতে চাইছেন না। ভ্রমণ বাতিল করা হয়েছে। শুধু নেপাল নয়, পাহাড়ে যেতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন।” আর একটি সংস্থার কর্তা দেবাশিস সরকার বলেন, “আমাদেরও নেপাল ভ্রমণ বাতিল করতে হয়েছে। ১৭ জনের দল ছিল। এখন কোথায় যাবেন ঠিক করে উঠতে পারেনি পর্যটকেরা।” এক ভ্রমণ সংস্থার তরফে মৈনাক আচার্য বলেন, “পুজোর পরে ৬ নভেম্বর দু’টি দল নেপাল যেত। আপাতত তা বাতিল করা হয়েছে।”

তবে উল্টো চিত্রও রয়েছে। নেপালের নাম শুনেই অনেক পর্যটকতে যখন আতঙ্ক গ্রাস করছে, তখন অনেকে আবার নেপাল যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। বর্ধমানের আইনজীবী রাজদীপ গোস্বামী, তাঁর স্ত্রী, কলেজ-শিক্ষিকা আলোলিকা গোস্বামী পড়েন সেই দলে। তাঁদের বক্তব্য, “ভ্রমণ সংস্থা বাতিল করেছে তো কী হয়েছে, আমরা কয়েক জন মিলে নেপাল যাবই। যত দূর যাওয়া সম্ভব, তত দূরই যাব।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Nepal tourism

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy