তৃণমূলের সরকারের আমলে পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বার বার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দুর্গাপুরের সিটু নেতা সৌরভ দত্ত। এ বার বিজেপি সরকার পুজোয় অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পরেই, ফের সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এ বারও আদাতলের দ্বারস্থ হবেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কোনও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি ভাবে অর্থ দেওয়া সংবিধানের বিরোধী।’’
২০১৬ থেকে দুর্গাপুজোয় সর্বজনীন পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া চালু করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বছর বছর অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতি বছর হাই কোর্টে মামলা করেছেন ‘মুক্তচিন্তা দুর্গাপুর’ নামে একটি সংগঠনের সম্পাদক সৌরভ। তাঁর হয়ে মামলা লড়েছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও শামিম আহমেদ। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও।
সে সব মামলায় আদালতে রাজ্য যুক্তি দিয়েছে, পুজো আয়োজনের জন্য অনুদান দেওয়া হয় না। কখনও মাস্ক, স্যানিটাইজ়ার বিলি করার জন্য, আবার কখনও সচেতনতামূলক প্রচারের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ বার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গে, তিনি আর্থিক ভাবে ‘সম্পন্ন’ পুজো কমিটিগুলিকে অনুদানের আবেদন না করার আর্জিও জানিয়েছেন।
সৌরভের দাবি, তিনি এ বারও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন। তাঁর অভিযোগ, “২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছর এই অনুদানের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। তৎকালীন তৃণমূল সরকার বার বার বলেছে, তারা পুজোর জন্য নয়, পুজো কমিটিগুলোকে দিয়ে নানা সামাজিক কাজ করাতে টাকা দিচ্ছে। কিন্তু তা মিথ্যা। সেই সামাজিক কাজের প্রমাণ আদালতে দিতে পারেনি সরকার।”
সৌরভের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে এ রাজ্যে জনগণের করের টাকায় অসাংবিধানিক ভাবে দুর্গাপুজোয় অনুদান, পুরোহিত ভাতা, নানা মন্দির নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিজেপি সরকারও যে পুজোয় অনুদান চালু রাখবে, সে বিষয়ে কার্যত নিশ্চিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আদালতে আমাদের লড়াই চলবে।’’